ঢাকা থেকেই ডেডলক: প্রতি বছরই বাড়ছে ঈদ যাত্রার ভোগান্তি
ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়া ঈদ যাত্রীদের প্রতি বছরই চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যানজট নিরসনের লক্ষ্যে বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করা হলেও, প্রতি বছরই মহাসড়কগুলোর পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।
আগামী বৃহস্পতিবার দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। ইতিমধ্যেই প্রধান মহাসড়কগুলোতে যাত্রীদের চাপ তীব্র হতে শুরু করেছে এবং রাজধানী ছাড়ার মানুষের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে এই চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঢাকা, গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া যাত্রীরা গাবতলী, আশুলিয়া কিংবা টঙ্গী—যেই রুটই তারা ব্যবহার করুন না কেন, সবখানেই চরম বিলম্বের শিকার হতে হচ্ছে।
শুধুমাত্র গাজীপুরের চন্দ্রা মোড় পার হতেই যাত্রীদের ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে, এবং এর পরেও মিলছে না স্বস্তি। টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা মোড় থেকে শুরু হওয়া যানজট প্রায়ই ৩০-৪০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে মির্জাপুর পর্যন্ত গিয়ে ঠেকছে। অন্যদিকে, যমুনা সেতুর টোল প্লাজায় অপেক্ষমান গাড়ির দীর্ঘ সারি এলেঙ্গার যানজটের সাথে মিলে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।
ফলে ঢাকা থেকে রাজশাহী বা চাঁপাইনবাবগঞ্জের মতো স্বাভাবিক সময়ের ৬-৭ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে, অনেক বাসযাত্রীকে বাড়ি পৌঁছাতে ১৭ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় রাস্তায় কাটাতে হচ্ছে।
অথচ ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের যাতাযাত যানজট মুক্ত ও নির্বঘ্ন রাখতে ইতোমধ্যেই হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বেশকিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে, কিছু প্রকল্প চলমানও রয়েছে। ঈদের আগে যানজট কমাতে ট্রাফিক ও জেলা পুলিশ ডাইভারশনসহ নানা পদক্ষেপ নিলেও ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের সড়ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এতদিন মূলত 'কানেক্টিভিটি' বা এক অঞ্চলের সাথে অন্য অঞ্চলের সংযোগ স্থাপনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন সময় এসেছে 'মোবিলিটি' বা দ্রুত ও নিরবিচ্ছিন্ন যান চলাচল নিশ্চিত করার ওপর মনোযোগ দেওয়ার।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদীউজ্জামান বলেন, "আমরা খুব দ্রুত সড়ক বা সেতু নির্মাণ করতে পারলেও—সেগুলোর কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারছি না। বিশেষত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো বড় প্রকল্পগুলোর কাজ ধীরগতিতে চলছে এবং নির্মাণ চলাকালে নিচের সড়কের ব্যবস্থাপনা অবহেলিত হচ্ছে। ঠিকাদাররা অনেক সময় বুঝতেই পারে না যে নিচের সড়ক সচল রাখতে কত জায়গা প্রয়োজন। ফলে সড়কগুলো সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে।"
ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে
ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলে যাতায়াতে যানজট নিরসনের জন্য ৯ বছর আগে নেওয়া ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে এখন উত্তরাঞ্চলের যাত্রীদের গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে। ২০২২ সালের জুনে প্রকল্পটির কাজ সমাপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও—তা শেষ হওয়ার কোন লক্ষণ নেই। বরং প্রকল্পের ব্যয় আরও ৯,৬৮০ কোটি টাকা বাড়িয়ে ২৭,২৩৩ কোটি টাকা নির্ধারণ ও প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে।
বিকল্প রুট হিসেবে গাজীপুর-চন্দ্রা কিংবা গাবতলী-সাভার-নবীনগর-বাইপাইল-চন্দ্রা করিডোর ব্যবহার করেও যাত্রীরা কোনো স্বস্তি পাচ্ছেন না। আব্দুল্লাহপুর থেকে ভোগড়া বাইপাস পর্যন্ত রাস্তাটি ব্যাটারিচালিত অটো-রিকশা এবং শিল্পঘন অঞ্চলের কলকারখানার কার্যক্রমের কারণে সারাক্ষণই অবরুদ্ধ থাকে।
একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে গাবতলী-আমিনবাজার-সাভার-নবীনগর-বাইপাইল-চন্দ্রা করিডোরেও। চার লেনের এই সড়কের দু'পাশে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের ভিড়, এলোমেলো গাড়ি থামানোর কারণে ঈদযাত্রায় গতি হারায় সড়কটি। ফলে ঢাকা থেকে চন্দ্রা পৌঁছাতেই প্রায়ই ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে এই দূরত্ব পার হতে ৩ ঘণ্টার বেশি লাগার কথা নয়।
চন্দ্রা মোড় এখনো এই রুটের সবচেয়ে বড় বটলনেক বা যানজটের মূল কেন্দ্র হিসেবে রয়ে গেছে। গাজীপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এই সংযোগস্থলে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হলেও— যানজট দূর করা সম্ভব হয়নি।
চন্দ্রা মোড়ের যানজটের জন্য পরিকল্পনাগত ভুলকে দায়ী করেছেন বুয়েটের অধ্যাপক অধ্যাপক মো. হাদীউজ্জামান। তিনি বলেন, "চন্দ্রা মোড়ে একটি ইন্টারচেঞ্জ হওয়া উচিত ছিল। একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ফ্লাইওভার দেওয়া পরিকল্পনাগত বড় ভুল, কারণ এটি যানবাহনের সঠিক গতিবিধি নিশ্চিত করতে পারে না এবং অনেকক্ষেত্রে উল্টো জট বাড়িয়ে দেয়।"
এলেঙ্গা মোড় ও যমুনা সেতু
১৯,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২ এর অংশ হিসেবে, এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনে প্রশস্ত করা হলেও— ঈদযাত্রায় এলেঙ্গা মোড় ও যমুনা সেতুর যানজট এ রুটের যাত্রীদের বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে যমুনা সেতু পার হওয়ার পর উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের অবশিষ্ট পথে এবার খুব বেশি ভোগান্তি হবে না বলে টিবিএসকে জানিয়েছেন এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ক প্রকল্পের পরিচালক ওয়ালিউর রহমান।
তিনি বলেন, হাটিকামরুল-কামারপাড়া অংশটি ছয় লেনে উন্নীত করা হয়েছে এবং যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড় থেকে রংপুর পর্যন্ত সড়কের বেশিরভাগ অংশেই এখন পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক উন্নত। শুধুমাত্র গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় একটি ফ্লাইওভার এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি, তাই সেখানে সামান্য ধীরগতি দেখা যেতে পারে।
ওয়ালিউর রহমান জানান, যানজটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ থেকে যায় যমুনা সেতুর উপরেই। চার লেনের এই সেতুতে মূল সমস্যা হয় যখন কোনো যানবাহন বিকল হয়ে যায়। বিশেষ করে, ঈদের সময় ভাড়ায় চালানো বাসগুলো অনেক সময় সেতুর উপরেই নষ্ট হয়ে পড়ে, ফলে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। এই সমস্যা মোকাবিলায় সেতুর ওপর প্রতি ২০০ মিটার পরপর লোক মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে কোনো গাড়ি বিকল হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এছাড়া দুই পাশে একাধিক রেকার (টো ট্রাক) রাখা হয়েছে, যাতে দ্রুত গাড়ি সরানো সম্ভব হয়।
ঢাকা-গাজীপুর মহাসড়কের ২৫টি স্পট
ঢাকা-গাজীপুর মহাসড়কে ২৫টি যানজটপ্রবণ স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা উড়ালসড়কের পশ্চিম প্রান্তে চার লেনের মহাসড়ক দুই লেনে এসে মিলিত হওয়ায় প্রতিবারই তীব্র জটলা পাকায়। এছাড়া চন্দ্রায় নির্দিষ্ট কোনো বাস টার্মিনাল না থাকা এবং মহাসড়কের বিভাজক (মিডিয়ান) কেটে যত্রতত্র পারাপারের ব্যবস্থা রাখায়— ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, গাজীপুরে প্রায় তিন হাজার ছোট-বড় শিল্প-কারখানা রয়েছে। একযোগে ছুটি ঘোষণা হলে মহাসড়কে যাতে মানবিক বিপর্যয় না ঘটে, সেজন্য এবার পোশাক কারখানাগুলো ২৫ ও ২৬ মে দুই ধাপে ছুটি দেওয়া হবে। তবে কিছু কারখানা ২৭ মে পর্যন্ত চলবে।
এদিকে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গাজীপুর মহানগর ও জেলা এলাকায় সর্বমোট ১১১টি পশুর হাট বসেছে, যার মধ্যে ১৭টিই মহানগরীর ভেতরে এবং বেশ কয়েকটি মহাসড়কের একদম গা ঘেঁষে। আশুলিয়ার শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে মায়ানগর এলাকায় মহাসড়কের পাশেই পশুর হাট বসানো হয়েছে। এসব হাটে পশুবাহী ট্রাকের যাতায়াত ও যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে যানজট পরিস্থিতি আরও নাজুক হওয়ার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা থেকে বহির্গমন পথগুলোর অচলাবস্থা
বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলো প্রশস্ত করা হলেও— অনিয়ন্ত্রিত ভূমির ব্যবহার, ভুল পরিকল্পনা ও দুর্বল ট্রাফিক অব্যবস্থাপনার কারণে, প্রবেশ ও বের হওয়ার মুখগুলো যেন বড়সড় বাসস্ট্যান্ড ও বাণিজ্যিক এলাকায় রূপ নিয়েছে। ফলে তীব্র যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে।
ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ ও ট্রাফিক উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর আলম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, আশুলিয়া, সাভার, নবীনগর শিল্পাঞ্চল হওয়ায় অন্তত ৭০ লাখ মানুষের বসবাস এই অঞ্চলে এবং আগামী ২৫ ও ২৬ তারিখে একটা বড় অংশের কলকারখানা ছুটি হয়ে যাবে। এতে করে হঠাৎই যাত্রীদের একটা বড় চাপ তৈরি হবে। এসময় গাড়ির স্বল্পতা থাকায় যাত্রীরা রাস্তায় নেমে আসেন।
তিনি বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলমান থাকার কারণে রাস্তায় অনেক খানাখন্দ রয়েছে, কিছু অংশ সরু হয়ে গেছে। রাস্তা কাটা হয়েছে। এখন যে অবস্থাতে আছে— আবার যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে কিন্তু যানবাহনের গতিমন্থর হয়ে যাবে। এই বিষয়গুলো তো আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।"
তিনি জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে নবীনগর থেকে আসা যানবাহনগুলোকে বামে মোড় নিয়ে লুপ ব্যবহার করে প্রবেশ করার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব প্রবেশমুখ
ঢাকার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব প্রবেশমুখ যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ ও পোস্তগোলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র যানজটের সমস্যা বিরাজ করছে। চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের পূর্বাঞ্চল এবং পদ্মাসেতু হয়ে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের যানবাহনের বড় অংশ এই রুটগুলো ব্যবহার করায় চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। বিশেষ করে, যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদ পয়েন্টে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের বাইরে সড়কের ওপর বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা কারণে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়, যা অনেক সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
অন্যদিকে পোস্তগোলা ও বুড়িগঙ্গা সেতু-১ এলাকায় শ্যামপুর ও পোস্তগোলার ভারী শিল্পাঞ্চল ঘিরে বড় ট্রেইলার ও পণ্যবাহী ট্রাকের অতিরিক্ত চলাচল সাধারণ যানবাহনের গতি কমিয়ে দিচ্ছে।
এদিকে বাবুবাজার ব্রিজ ও নয়াবাজার-কেন্দ্রিক দক্ষিণ প্রবেশমুখেও একই ধরনের চাপ লক্ষ করা যাচ্ছে। পদ্মাসেতু চালুর পর মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুরসহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকার যানবাহন এই রুটে যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
বাবুবাজার ব্রিজ পার হয়ে দূরপাল্লার যানবাহন যখন পুরান ঢাকার নয়াবাজার, ইমামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার এলাকায় প্রবেশ করে—তখন সংকীর্ণ ও ঘিঞ্জি সড়কগুলো অতিরিক্ত চাপ সামলাতে ব্যর্থ হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাইকারি বাজারগুলোতে দিন-রাত পণ্য ওঠানামার কাজ, যেখানে ভ্যান, রিকশা ও কাভার্ড ভ্যানের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে পুরো এলাকা প্রায় অচল হয়ে পড়ছে।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, যানজট কমাতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি নিজস্ব উদ্যোগে প্রায় ৫০ জন ট্রাফিক কন্ট্রোলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আব্দুল্লাহপুর, ধৌর, খামারপাড়া, আশুলিয়া, জামগড়া, জিরাবো, ফ্যান্টাসি কিংডম এলাকা, বাইপাইল, ইপিজেড এবং শ্রীপুরসহ যানজট প্রবণ পয়েন্টে তারা দুই শিফটে দায়িত্ব পালন করবেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে বাধা
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে এবারের ঈদুল আজহায় যানজটের শঙ্কা রয়েছে। ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ছাড়াও মহাসড়ক ঘিরে অবৈধ স্থাপনা, নিমসার, চান্দিনার মতো স্থানে স্থায়ী বাজার এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করানোর কারণেও যানজট লাগতে পারে।
মহাসড়কের কুমিল্লা সেনানিবাস অংশসহ একাধিক অংশে সংস্কার কাজ চলমান থাকায় ওই এলাকাগুলোতে যানজট লেগে থাকত। তবে ঈদ উপলক্ষ করে গত দুদিন ধরে সংস্কার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২৫টি অংশ যানজটপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত। প্রতিবারের মতো এবারও এসব স্থানকে টার্গেট করে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ।
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম বলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে সড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবিও মাঠে নামছে। এদিকে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকেও অনুরোধ জানিয়েছি সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করতে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের গাজীপুর, সাভার ও কুমিল্লা প্রতিনিধিরা প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন
