পশুর সরবরাহ পর্যাপ্ত, দামও নাগালে; মুষলধারে বৃষ্টিতে হাটে ভোগান্তি
আর মাত্র দুদিন বাদেই ঈদ। ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলোতে জমে উঠেছে বেচাকেনা। হাট ঘুরে পর্যাপ্ত পশুর সরবরাহ দেখা গেছে।
ক্রেতাদের মতে, গত বছরের তুলনায় পশুর দাম এবার খুব বেশি বাড়েনি, বরং অনেকটা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। দরকষাকষির মাধ্যমে বিক্রি হওয়া পশু নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতা ও বিক্রেতা— উভয় পক্ষই।
তবে সোমবার (২৫ মে) মুষলধারে বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় হাটজুড়ে তৈরি হয়েছে চরম ভোগান্তি।
বেলা ১১টার দিকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টিতে গাবতলী হাটের বড় অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও পানি জমে ছোট ডোবায় পরিণত হয়েছে। কর্দমাক্ত পরিবেশে পশু নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়তে দেখা যায় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, কিছু বিক্রেতা নিজেরাই বালু ও খড় ফেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। গরু রাখার স্থান শুকনো রাখতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও পুরোপুরি স্বস্তি মিলছে না।
এবার রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে মোট ২৪টি অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় গাবতলী পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। অনেকেই পরিবার নিয়ে পশু কিনতে এসেছেন। কেউ আবার কেবল বাজার ঘুরে দেখছেন এবং দাম যাচাই করছেন।
গাবতলীতে গরু কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, অযথা উচ্চমূল্যে হাঁকডাক তুলনামূলক কম। দরদামের সুযোগ থাকায় অনেকেই সন্তুষ্ট। তবে কিছু ক্রেতার মতে, দাম এখনো কিছুটা বেশি। সময় গড়ালে আরও কমতে পারে— এই আশায় কেউ কেউ গরু কেনা দুয়েক দিন পিছিয়ে দিচ্ছেন।
সিরাজগঞ্জ থেকে আসা খামারি আরমান মিয়া বলেন, '২৫টি গরু নিয়ে এসেছিলাম। এর মধ্যে ২১টি ইতোমধ্যে বিক্রি হয়েছে। বাকি গরুগুলোও বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।'
নরসিংদী থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, '১৭টি গরু নিয়ে এসেছি। ১০টি বিক্রি হয়েছে, এখনো সাতটি আছে। বৃষ্টির কারণে গরুগুলো পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে পশুগুলোও কষ্ট পাচ্ছে, আমরাও সমস্যায় আছি।'
নেত্রকোনা থেকে আসা ব্যবসায়ী তালেব মিয়া বলেন, 'আমি ও আমার ভাই মিলে আটটি গরু এনেছি। এর মধ্যে নিজেদের খামারের গরুও আছে। কিন্তু দুই দিনেও মাত্র একটি গরু বিক্রি করতে পেরেছি।'
গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শন করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, 'হাটে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি অতিরিক্ত মোবাইল টিম, ফুট প্যাট্রল ও চেকপোস্ট কার্যকর থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে।'
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, 'ক্রেতারা যেন নির্বিঘ্নে পশু কিনে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা কাজ করছে। পাশাপাশি হাসিলের অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।'
সংশ্লিষ্টদের আশা, আগামী দুই দিন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পশু বেচাকেনা আরও জমে উঠবে।
