জাহাজেই ঈদের নামাজ পড়লেন হরমুজে আটকে থাকা বাংলার জয়যাত্রার ৩১ নাবিক
ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালিতে প্রায় তিন মাস ধরে আটকে থাকা বাংলাদেশের পতাকাবাহী রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রার ৩১ নাবিক জাহাজেই ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজটি এর মধ্যে তিনবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে।
এই ৩১ নাবিকের সবাই বাংলাদেশি। পরিবার-পরিজন ফেলে গত ঈদুল ফিতরও জাহাজেই কেটেছে তাদের। বুধবার ঈদুল আজহাও (স্থানীয় সময়) তাদের কাটাতে হলো সাগরে ভাসমান জাহাজে। সব মিলিয়ে দুঃসহ ও চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটছে তাদের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নাবিক টিবিএসকে বলেন, 'সমুদ্রে কয়েক মাস কাটানোর অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। আমাদের মধ্যে অনেকেই ছয় মাস সমুদ্রযাত্রার পর বাড়ি ফেরেন। কিন্তু এর আগে আমরা কখনো এমন যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি।'
আরেক নাবিক বলেন, জাহাজে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও পরিবার থেকে দূরে টানা দুটি ঈদ কাটানোটা মানসিকভাবে খুবই কঠিন ছিল।
'খাবার বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের কোনো অভাব নেই, কিন্তু আমরা আমাদের পরিবারকে নিয়ে প্রতিনিয়ত চিন্তিত থাকি এবং তারাও আমাদের নিয়ে চিন্তিত', বলেন তিনি।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর এম মাহমুদুল মালেক বলেন, নাবিকেরা নিরাপদে আছেন।
'সমুদ্রে থাকা নাবিকদের জন্য নতুন কিছু নয়। সব নাবিক সুস্থ আছেন এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। আমরা জাহাজটিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি,' যোগ করেন তিনি।
বিএসসি সূত্র অনুযায়ী, এমভি বাংলার জয়যাত্রা গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করার পর জাহাজটি ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। পরের দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালালে জাহাজটি এই অঞ্চলে আটকা পড়ে।
১১ মার্চ জেবেল আলীতে পণ্য খালাস সম্পন্ন হয়। জাহাজটির প্রাথমিকভাবে কুয়েত থেকে নতুন পণ্য বোঝাই করার কথা ছিল। কিন্তু সংঘাত বাড়তে থাকায় বিএসসি পরে জাহাজটিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।
