নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ও দ্রুত বিচারের দাবি ১৫৬ সংগঠনের
দেশে সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের কাছে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর, দ্রুত বিচার নিশ্চিত এবং মামলার সুষ্ঠু নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছে নারী ও শিশু অধিকার সুরক্ষায় কর্মরত ১৫৬টি সংগঠন।
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটসহ দেশের বিভিন্ন নারী ও শিশু অধিকারভিত্তিক সংগঠন।
সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর পল্লবী ও বনশ্রী থেকে শুরু করে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা, মাগুরা ও নেত্রকোনার মদনসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন, হত্যা ও যৌন সহিংসতার ঘটনাগুলো তুলে ধরা হয়।
আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক গত চার মাসে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
এ সময় তিনি সব সংগঠনের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতনকে জাতীয় জরুরি ইস্যু ঘোষণা করে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, ধর্ষণ ও সব ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন, ধর্মভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর নজরদারি, দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান, সাক্ষ্যপ্রদান প্রক্রিয়া আধুনিকীকরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি বাধ্যতামূলক করা, অপরাধীদের কেন্দ্রীয় ট্র্যাকিং ডাটাবেজ তৈরি এবং সাইবার সহিংসতা প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থাসহ ১৭ দফা দাবি তুলে ধরেন।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, "দেশ এখন সামাজিক দুর্যোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে বর্বরতা সব সীমা অতিক্রম করেছে। সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলো তিন যুগের বেশি সময় ধরে কাজ করার পরও আজকের পরিস্থিতিতে সবাই নির্বাক।"
তিনি বলেন, "মনে হচ্ছে অপরাধীরা বুঝে গেছে যে অপরাধ করেও তাদের কিছু হবে না। তাই অপরাধের মাত্রা আরও বাড়ছে। এর পেছনে সামাজিক ও মানবিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি আইনের দুর্বলতাও দায়ী।"
তিনি আরও বলেন, সমাজে প্রতিবেশীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ফিরিয়ে আনতে হবে এবং সামাজিক মূল্যবোধ জোরদার করতে হবে। শিশু সুরক্ষা কমিটিগুলোকে শিশুদের অধিকার রক্ষায় আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকারকে "জিরো টলারেন্স" ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানান।
বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের (বিএনপিএস) পরিচালক শাহনাজ সুমী বলেন, ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবার জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে "শিশু সুরক্ষা নীতি" বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রাগ্রসর সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফৌজিয়া খন্দকার ইভা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে কাজ করতে সরকারি-বেসরকারি সব সংগঠন ও নেটওয়ার্কের মধ্যে আরও শক্তিশালী সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় নির্যাতনের শিকার এক শিশুর বাবা বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ধর্ষণের ঘটনার পর তার মেয়েকে নিয়ে শুরুতে গণমাধ্যমে অনেক আলোচনা হলেও বর্তমানে খুব কম মানুষই খোঁজখবর নেয়। তিনি আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
