যশোর ও কুষ্টিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮, আহত অন্তত ৩০
যশোর ও কুষ্টিয়ায় পৃথক দুটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু ও নারীসহ অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন।
আজ শনিবার (২৩ মে) দুপুরে যশোর-খুলনা মহাসড়কের চাউলিয়া তেল পাম্পের সামনে কাভার্ডভ্যানের চাপায় ইজিবাইক ও ভ্যানের চালকসহ চার যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ সময় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
আহতদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন—যশোর সদর উপজেলার ঘুনিপূর্বপাড়া গ্রামের মৃত হাসান আলী মোল্লার ছেলে ইজিবাইক চালক মোহাম্মদ আইয়ুব আলী (৪৩), ঘোড়াগাছা সাহাপাড়া গ্রামের সুজন সাহার স্ত্রী বৃষ্টি সাহা (২৪), তার চার বছরের শিশু সন্তান সৌভিক সাহা এবং চাউলিয়া গ্রামের মৃত কালু শেখের ছেলে ভ্যান চালক আনোয়ার আলী (৭০)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুলনা থেকে যশোরমুখী একটি দ্রুতগামী কাভার্ডভ্যান রূপদিয়ার চাউলিয়া এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইক ও ইঞ্জিনচালিত ভ্যানকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ইজিবাইক চালক আইয়ুব আলী ও যাত্রী বৃষ্টি সাহা মারা যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আনোয়ার আলী ও শিশু সৌভিক সাহা।
দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা প্রায় ঘণ্টাখানেক মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে এবং ঘাতক কাভার্ডভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাছুম খান জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের খোকসায় একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে চারজন নিহত হয়েছেন। আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খোকসা শিয়ালডাঙ্গী মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০-২৫ জন।
কুষ্টিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ জানান, 'তানহা পরিবহন' নামের একটি বাস রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়ার দিকে যাওয়ার পথে একটি ভ্যানকে বাঁচাতে গিয়ে বিপরীতমুখী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়।
এ ঘটনায় খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই নারী ও দুই পুরুষসহ মোট চারজন মারা যান।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ইকবাল হাসান জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
