পল্লবীতে উচ্ছেদ অভিযানে পুলিশের ওপর হামলা; পুলিশের লাঠিচার্জ
রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়া বাঁধ এলাকায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের দখল হওয়া সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা বস্তি উচ্ছেদ অভিযানে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের ইটপাটকেলের আঘাতে ৬-৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পরে বিকেলে পুলিশ ফের উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গেলে বাধা দিতে আসা লোকজনের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। এ সময় দুই সাংবাদিকও পুলিশের মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২০ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের উদ্যোগে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বাউনিয়া বাঁধ বস্তিতে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।
তাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন পল্লবী থানা-পুলিশ ও পুলিশের বিশেষ ইউনিটের (পিওএম) সদস্যরা। কিন্তু শুরুতেই এই উচ্ছেদ অভিযানে বাধা দেন স্থানীয়রা। একপর্যায়ে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে দুপুর ১২টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গাড়িতে উঠে সরে পড়েন। এতে পুলিশ সদস্যরাও ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। তখন স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মোস্তাক সরকার বলেন, 'গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের একটি সরকারি জমিতে বস্তি গড়ে উঠেছে। ওই জমি উদ্ধারে বস্তিতে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গেলে স্থানীয়রা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের ওপর হামলা করে। এতে ৬-৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।'
এদিকে, সকালের এই ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়— সাধারণ মানুষ পুলিশকে ধাওয়া করছে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছে, আর পুলিশ জীবন বাঁচাতে দৌড়ে পালাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
মারধরের শিকার হওয়া ওই দুই সাংবাদিক হলেন— বাংলাদেশ টাইমসের রিপোর্টার তাসবির ইকবাল এবং বাংলাদেশ প্রতিদিনের নেহাল আহমেদ প্রান্ত। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রান্তকে সড়কে ফেলে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছে পুলিশ। তাকে বাঁচাতে গিয়ে তাসবির ইকবালও মারধরের শিকার হন।
মারধরের শিকার সাংবাদিক নেহাল আহমেদ প্রান্ত অভিযোগ করেন, 'বিনা নোটিশে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে কেন'— এই প্রশ্ন করার পরই পুলিশ তাদের মারধর করে।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসি মো. মোস্তাক সরকার বলেন, 'বিকেলে ফের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।তখন পুলিশ নিজেদের এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের জানমাল রক্ষার জন্য বিক্ষুব্ধ জনতাকে লাঠিচার্জ করেছে। তখন তাদের মধ্যে থাকা কোনো সাংবাদিকের শরীরে লাঠির আঘাত লাগতে পারে। কিন্তু সাংবাদিক পরিচয় জেনে কাউকে আঘাত করা হয়নি।'
