তিস্তা প্রকল্প পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে, যুক্ত হবে পানি সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা
দেশের উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি পানি সংকট মোকাবিলায় তিস্তা মেগা প্রকল্প নতুন করে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, 'বন্যা ও নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এবার প্রকল্পে পানি সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা যুক্ত করা হবে।'
মঙ্গলবার (১৯ মে) সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন।
যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) উপদেষ্টা হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে জাহেদ উর রহমান বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিস্তা মেগা প্রকল্প নিয়ে আলোচনায় মূল প্রশ্ন ছিল—শুধু বন্যা ও নদী ভাঙন নিয়ন্ত্রণ নয়, শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারের জন্য পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থাও থাকতে হবে।'
তিনি বলেন, 'বর্তমানে প্রকল্পে তিস্তা নদীর প্রস্থ প্রায় ৮০০ মিটারের মধ্যে সীমিত রাখা, ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে গভীরতা বৃদ্ধি এবং নদীতীর সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ মূলত বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদী ভাঙন প্রতিরোধকেন্দ্রিক।'
জাহেদ উর রহমান বলেন, 'তিস্তা অববাহিকায় নদী ভাঙন যেমন বড় সমস্যা, তেমনি বন্যাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু প্রকল্পে পদ্মা ব্যারাজের মতো পানি সংরক্ষণের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। অথচ শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়।'
তিনি আরও বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী যথার্থভাবেই প্রশ্ন তুলেছেন—যদি পদ্মা ব্যারাজে বর্ষাকালে পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহার করা যায়, তাহলে তিস্তার ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা কেন থাকবে না?'
জাহেদ উর রহমান বলেন, 'এ কারণে তিস্তা মেগা প্রকল্পে পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহারের নতুন ব্যবস্থা যুক্ত করে প্রকল্পটি পুনর্গঠন করা হচ্ছে।'
তিনি বলেন, 'এ কারণেই কিছুটা সময় লাগছে। তবে আমরা আশা করি, জনগণ বুঝতে পারবেন—দীর্ঘমেয়াদে মানুষের কল্যাণে আরও কার্যকর ও সমন্বিত একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।'
