২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪৫৭
দেশে হামের মতো উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হামে ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫৭ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল ৮টা থেকে আজ (১৬ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে ৯৬১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে ১০৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৭৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩৭৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
ডিজিএইচএসের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত পরীক্ষাগারে মোট ৭ হাজার ৫২৪টি হাম রোগীর নমুনা শনাক্ত হয়েছে।
সর্বশেষ স্বাস্থ্য বুলেটিন অনুযায়ী, সারাদেশে মোট ৫৬ হাজার ৫৭২ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে ইতোমধ্যে ৩৬ হাজার ৬৪৫ জন হাসপাতাল ছেড়েছেন।
শুধু আইসিইউ বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়
দেশে হামের বিস্তার রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শুধু আইসিইউ বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এম মুশতাক হোসেন। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এক সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলেও তিনি জানান।
শনিবার (১৬ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত 'হামে শিশু মৃত্যু: জনস্বাস্থ্য সংকট ও উত্তরণের পথ' শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান। চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, 'হামের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের অবহেলা দায়ী। একই সঙ্গে সুচিকিৎসা নিশ্চিত না করা, পর্যাপ্ত আইসিইউ সুবিধার অভাব এবং চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতে না পারার দায়ও সরকার এড়াতে পারে না।'
হামে চার শতাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকার ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনের সভাপতি শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. এম এইচ ফারূকী।
ডা. ফারূকী বলেন, 'সময়মতো টিকা দেওয়ার ঘাটতিই এ সংকটের জন্য দায়ী, যা টিকা ক্রয় ও মজুদের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার কারণে ঘটেছে।'
তিনি অভিযোগ করেন, 'অন্তর্বর্তী সরকার শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো বন্ধ করে দেওয়ায় হামে মৃত্যুঝুঁকি বেড়েছে।'
তিনি বলেন, 'হামের কারণে শরীরে যে সকল সমস্যা দেখা দেয় তার প্রতিরোধে ভিটামিন এ খুবই কার্যকর ভূমিকা পালন করে। পূর্বে সরকারের কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ৬ মাস অন্তর ভিটামিন এ খাওয়ানো হতো। কিন্তু বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এ কর্মসূচিটিও বন্ধ হওয়ায় হামের কারণে মৃত্যুঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।'
ডা. ফারূকী আরও বলেন, '২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর টিকার জন্য আর কোনো অর্থ বরাদ্দ ছাড় করা হয়নি। ফলে টিকা ক্রয়ের পদ্ধতিগত জটিলতার কারণে টিকা কেনা ও মজুদে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।'
সংবাদ সম্মেলনে ১৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— চলমান গণটিকাদান কর্মসূচি সারাদেশে জোরদার করে প্রায় শতভাগ শিশুকে পূর্ণমাত্রায় টিকার আওতায় আনা, সব সরকারি হাসপাতালে 'হাম কর্নার' চালু এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করা।
এছাড়া ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের প্রতি ৬ মাস অন্তর নিয়মিত ভিটামিন-এ খাওয়ানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, গাফিলতির জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে টিকা উৎপাদনের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং টিকা উৎপাদনে জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।
