বিছানাকান্দিতে নিখোঁজ শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মরদেহ ৫ ঘণ্টা পর উদ্ধার
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র বিছানাকান্দিতে পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী শান্ত বণিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের প্রায় ৫ ঘণ্টা পর শুক্রবার (১৫ মে) রাত ১০টার দিকে বিছানাকান্দি থেকেই তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
শাবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাত ১০টার দিকে ডুবুরি দল শান্তর লাশ খুঁজে পায়। বর্তমানে তার মরদেহটি নিয়ে আসা হচ্ছে। নিহত শান্ত বণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তেল ও খনিজ প্রকৌশল (পিএমই) বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলায়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে ১০-১১ জনের একটি দল বিছানাকান্দি এলাকায় ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেখানে স্বচ্ছ পানিতে তারা সাঁতার কাটতে নামেন। এ সময় বৃষ্টির কারণে উজান থেকে হঠাৎ পাহাড়ি ঢল নামলে পানির স্রোত তীব্র আকার ধারণ করে। প্রবল স্রোতের তোড়ে একপর্যায়ে শান্ত বণিক পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হন।
এ সময় তার বন্ধুদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন এবং নৌকা নিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে টুরিস্ট পুলিশ ও গোয়াইনঘাট থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারাও ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। তবে দীর্ঘক্ষণ তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
শাবির পিএমই বিভাগের অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তানজিদ রহমান অপূর্ব জানান, শান্ত তার ব্যাচের ১০-১২ জন বন্ধুর সাথে বিছানাকান্দিতে ঘুরতে এসেছিল। সোয়া ৫টার দিকে সে নিখোঁজ হয়। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও প্রশাসনের বিশেষায়িত ডুবুরি দল পৌঁছাতে বিলম্ব করেছিল।
উদ্ধার তৎপরতা বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, খবর পাওয়ার পর থেকেই তারা জেলা প্রশাসনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান জানান, প্রতিকূল রাস্তাঘাট ও যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে উদ্ধারকারী ও ডুবুরি দলের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়ার পর দ্রুতই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা হয়। রাত ১০টার দিকে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে এই ট্র্যাজিক ঘটনার সমাপ্তি ঘটে। এই অকাল মৃত্যুতে নিহতের পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সহপাঠীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
