এক মাসের শিশুকে হামের বদলে জলাতঙ্কের টিকা; তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের টিকার পরিবর্তে একমাস বয়সী এক শিশুকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে সরকারকে দ্রুত ওই শিশুর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ওই শিশুর পরিবারকে কেন ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। স্বাস্থ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্টদেরকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
ল' অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পক্ষে এ রিট করা হয়।
গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রকাশিত খবরে বলা হয়, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের টিকার পরিবর্তে এক মাস বয়সী শিশুকে দেওয়া হয়েছে জলাতঙ্কের টিকা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম ওই শিশুকে এই টিকা দেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ রোগীর পরিবার ভুল চিকিৎসার জন্য বিচার দাবি করেছেন।
ঘটনা জানাজানির পর হাসপাতালে শিশু রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে স্থানীয়রা।
কর্তৃপক্ষ বলছে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার ছাব্বিশা গ্রামের মৌ খাতুন গতকাল বুধবার (১৩ মে) দুপুরে তার এক মাস ৫ দিন বয়সী শিশু ফাতিহাকে হামের টিকা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকাকেন্দ্রে নিয়ে যান।
এ সময় সেখানে দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম হামের টিকার পরিবর্তে ওই শিশুকে দুই ডোজ জলাতঙ্কের র্যাবিক্স ভ্যাকসিন দেন। এর কিছুক্ষণ পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় ঘটনাটি প্রকাশ পেলে স্বজনরা এর প্রতিবাদ করেন। মুহূর্তেই ঘটনাটি প্রচার হওয়ার পর হাসপাতালে আসা অন্যান্য শিশুর স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম অবসরে যাওয়ার পর সেখানে দায়িত্ব পালনের কথা ছিল সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক নুরুল ইসলাম নুরুর। কিন্তু নুরুল ইসলাম হাসপাতালে না থাকায় অবসরে থাকা কাইয়ুমকে দিয়ে ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার জানায়, প্রতিবাদ করলে খারাপ ব্যবহার করেন কাইয়ুম ও নুরুল ইসলাম। শিশুটি ক্রমেই নিস্তেজ হয়ে পড়ছে।
এ ঘটনায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাফিলতিকে দায়ী করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে শিশুটির পরিবার।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম বলেন, 'ভুলবশত হামের টিকার পরিবর্তে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এটা অনিচ্ছাকৃত ভুল।'
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ বলেন,' ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি অবসরে চলে গেছেন। তারপরও ভ্যাকসিন কার্যক্রম চালানোর জন্য তাকে নিয়ে আসা হয়েছে।'
