‘কেয়ার ইকোনমি’ জোরদারে ১,৬০০ নারীকে চাইল্ডকেয়ার উদ্যোক্তা বানানোর উদ্যোগ সরকারের
অনানুষ্ঠানিক খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং দেশের ক্রমবর্ধমান 'কেয়ার ইকোনমি' শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ১,৬০০ নারীকে 'হোম-বেইজড চাইল্ডকেয়ার' উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এই উদ্যোগের আওতায় বাসাভিত্তিক শিশুযত্ন কেন্দ্র (চাইল্ডকেয়ার সেন্টার) স্থাপন করা হবে, যেখানে কর্মজীবী মায়েদের সন্তানদের নিরাপদ পরিচর্যা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে নতুন আয়ের সুযোগও খুঁজে পাবেন নারীরা।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) পরিচালিত 'রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট' (রেইজ) প্রকল্পের অধীনে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পিকেএসএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মশিয়ার রহমান বলেন, দক্ষতা উন্নয়নে রেইজ প্রকল্প পিকেএসএফের অন্যতম প্রধান কর্মসূচি।
তিনি বলেন, "রেইজ প্রকল্পের আওতায় হোম-বেইজড চাইল্ডকেয়ার উদ্যোগ চালু হলে বাংলাদেশে নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"
পিকেএসএফ জানায়, নির্ভরযোগ্য শিশুযত্ন সেবা নিশ্চিতের মাধ্যমে কর্মজীবী মায়েদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে এ উদ্যোগ। ফলে সন্তানদের নিরাপত্তা ও পরিচর্যা নিয়ে দুশ্চিন্তা ছাড়াই আরও বেশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন নারীরা।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগ্রহী নারীদের নিজ নিজ এলাকায় বাসাভিত্তিক শিশুযত্ন কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনায় সহায়তা দেওয়া হবে।
পিকেএসএফ কর্মকর্তাদের মতে, এ উদ্যোগ একদিকে নতুন নারী উদ্যোক্তা তৈরি করবে, অন্যদিকে শিশুযত্নসেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের 'কেয়ার ইকোনমি' আরও শক্তিশালী হবে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন
এর আগে গত ২৯ এপ্রিল রেইজ প্রকল্পে অতিরিক্ত ১৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলার অর্থায়নের জন্য সরকার ও পিকেএসএফের মধ্যে একটি সাবসিডিয়ারি চুক্তি সই হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, সরকার বিশ্বব্যাংক থেকে এ অর্থ গ্রহণ করে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পিকেএসএফের কাছে হস্তান্তর করবে।
এ ছাড়া পিকেএসএফ ও এর সহযোগী সংস্থাগুলো যথাক্রমে ১০ কোটি ৫৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং ২ কোটি ৫৮ লাখ ১০ হাজার ডলার সহ-অর্থায়ন দেবে।
ফলে রেইজ প্রকল্পে মোট অতিরিক্ত অর্থায়নের পরিমাণ দাঁড়াবে ২৮ কোটি ২৪ লাখ ২০ হাজার ডলার।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেশের দুর্গম ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে বসবাসকারী তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে এ অতিরিক্ত অর্থায়ন ব্যবহার করা হবে।
বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে চর, হাওর, উপকূলীয় ও পার্বত্য এলাকার সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে।
