অনলাইন জুয়ার টাকা চীনে পাচার: ৬ চীনা নাগরিকসহ ৮ জন ২ দিনের রিমান্ডে
অনলাইন জুয়া ও সাইবার প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা চীনে পাচার করার অভিযোগে গ্রেপ্তার ছয় চীনা নাগরিকসহ আটজনকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া রোকন উদ্দিন নামে এই চক্রের আরেক আসামিকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালত এই আদেশ দেন। পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী উপপরিদর্শক রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার টিম দক্ষিণের উপপরিদর্শক মো. রাশেদুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে, আসামিদের পক্ষে আইনজীবী পরিমল পাল ও হেলাল উদ্দিনসহ অন্যরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আট আসামির দুই দিনের রিমান্ড এবং রোকনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন—এমএ জি (৩৩), ঝাং জিয়াহাও (২২), লিও জিঞ্জি (৩২), ওয়াং শিবো (২৪), চাং তিয়ানতিয়ান (২৯), জেমস ঝু (৪৩), মো. কাউসার হোসেন (২৪) ও মো. আব্দুল-কারিম (২৮)।
গত বুধবার ডিবি পুলিশ রাজধানীর উত্তরা ও তুরাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহৃত ৩টি ৬৪-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল (ভিওআইপি জিএসএম গেটওয়ে) মেশিন, ১টি ৮-পোর্ট বিশিষ্ট মেশিন, ১টি ২৫৬-পোর্ট বিশিষ্ট সিম মডিউল মেশিন, বিভিন্ন অপারেটরের প্রায় ২৮০টি সিম কার্ড, একাধিক ল্যাপটপ, ২০টি স্মার্টফোন, নগদ প্রায় ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা, বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট ও এনআইডি এবং ১টি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।
এর আগে দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, "গত ১ মে থেকে আমরা অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু করেছি। অনলাইন জুয়া বর্তমানে মহামারি আকার ধারণ করেছে। আমাদের সাইবার টিম মনিটরিং করতে গিয়ে এই চক্রটিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে।"
তিনি জানান, চক্রটি ফেসবুক, ইউটিউব, টেলিগ্রাম এবং বিভিন্ন ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জুয়ার বিজ্ঞাপন দিত। স্বল্প সময়ে টাকা দ্বিগুণ-তিনগুণ করার প্রলোভন দেখিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলত। শফিকুল ইসলাম বলেন, "আমরা অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখছি, এই টাকাগুলো নগদ বা বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন হচ্ছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে, যা আমাদের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। চক্রটি প্রথমে প্রলোভন দেখিয়ে কিছু লাভ দিলেও পরবর্তীতে মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।"
চীনা নাগরিকদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে ডিবি প্রধান বলেন, "প্রযুক্তিগত দিক থেকে চাইনিজরা অনেক উন্নত। তারা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের প্রলুব্ধ করছে। এছাড়া আমাদের দেশ থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে টাকা ট্রান্সফার হয়তো কিছুটা সহজ হয়ে গেছে। আমরা আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলব যাতে আইন আরও কঠোর করা হয়।"
অবৈধ সিম ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, "সিম বিক্রেতারা অনেক সময় কম শিক্ষিত মানুষের কাছ থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেলেনি অজুহাতে বারবার ছাপ নেয়। এভাবে তারা একাধিক সিম রেজিস্ট্রেশন করে এসব অপরাধী চক্রের কাছে বিক্রি করে। আমরা এ ধরনের অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনব।"
উল্লেখ্য, এই প্রতারণার ঘটনায় ডিবি পুলিশের সাইবার টিমের এসআই সুব্রত দাশ বাদী হয়ে রমনা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
