জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, মামলা দায়ের
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে গত রাতে এক ছাত্রীকে পথরোধ করে মারধর ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আজ বুধবার (১৩ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. গাফরুল হাসান চৌধুরী বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, "আজ সকালে মামলা করা হয়েছে। আমাদের কাছে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। আশা করছি দ্রুতই হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করতে পারব। পুলিশ, ডিবি ও র্যাব তাকে ধরতে একসঙ্গে কাজ করছে।"
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার (১২ মে) রাত আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিট থেকে ১১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে পরিত্যক্ত পুরোনো ফজিলাতুন্নেসা হল এবং আল-বেরুনি হলের বর্ধিত অংশের মধ্যবর্তী নির্জন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ইতিহাস বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লামিসা ভুক্তভোগী ছাত্রীর বরাত দিয়ে জানান, ওই ছাত্রী পার্শ্ববর্তী ইসলামনগর এলাকায় থাকেন। রাত বেশি হওয়ায় রিকশা না পেয়ে তিনি হেঁটে পুরনো কলা ভবনের বর্ধিত অংশের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে আল-বেরুনি হলের সম্প্রসারিত এলাকায় পৌঁছালে তিনি লক্ষ্য করেন একজন তাকে অনুসরণ করছে। সন্দেহ হওয়ায় তিনি পেছনে ফিরে লোকটির পরিচয় এবং সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কি না জানতে চান। লোকটি নিজেকে ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই সে অতর্কিত হামলা চালায় এবং রুমাল বা কাপড় জাতীয় একটি বস্তু দিয়ে ছাত্রীর গলা পেঁচিয়ে ধরে পাশের ঝোপঝাড়ে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এসময় চিৎকার শুরু করেন এবং একপর্যায়ে হামলাকারীকে কামড় দিয়ে বা অন্য কোনোভাবে বাধা দিয়ে তার কবল থেকে মুক্ত হয়ে দৌড়ে সড়কে চলে আসেন। এসময় ওই পথ দিয়ে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান।
ঘটনাস্থল দিয়ে অটোরিকশায় যাওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) নির্বাহী সচিব মোহাম্মদ আলী চিশতিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, "আমি চিৎকার শুনে প্রথমে ভেবেছিলাম কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে বা কারো মধ্যে ঝগড়া হচ্ছে। পরে সামনে গিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে দেখতে পাই। তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। তখন উপস্থিত কয়েকজনকে নিয়ে আমরা পাশের ঝোপঝাড়ে তল্লাশি করি, কিন্তু কাউকে খুঁজে পাইনি। পরে প্রশাসনকে বিষয়টি জানাই।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তানভীর হোসেন জানান, ছাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তার শরীরে নখের আঁচড়ের মতো একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নার্স আলমগীর হোসেন জানান, আঘাতগুলো দেখে মনে হয়েছে তাকে জোরপূর্বক খামচি দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার গাফরুল হাসান চৌধুরী বলেন, "গতকাল রাত প্রায় ১১টা ১৫ মিনিটে শিক্ষার্থীরা আমাদের বিষয়টি জানালে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করি। ফুটেজে দেখা গেছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি শিক্ষার্থীর গলায় জালের মতো কিছু একটা পেঁচিয়ে ঝোপের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ফুটেজের ভিত্তিতে আমরা প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি এবং আজ সকালে মামলা দায়ের করেছি।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, "আমরা ফুটেজে সন্দেহভাজন ব্যক্তির চেহারা দেখেছি এবং তাকে শনাক্ত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কাজ করছি। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের ধারণা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন, তিনি একজন বহিরাগত। আমরা এ ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত। অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।"
