কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে মাদ্রাসা, এতিমখানার জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ
আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া যাতে সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা যায়, সেজন্য দেশের মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোর অনুকূলে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।
এই বরাদ্দের বড় অংশ দিয়ে লবণ কিনে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসকেরা তাদের জেলার সব মাদ্রাসা ও এতিমখানায় কোরবানির আগেই এই লবণ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে থাকবেন। পাশাপাশি যথাযথ নিয়মে পশু জবাই ও চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে জেলা-উপজেলায় প্রশিক্ষণেরও আয়োজন করা হবে।
গত ৪ মে (সোমবার) অর্থ মন্ত্রণালয় শর্ত সাপেক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে এই অর্থ বরাদ্দ অনুমোদন করেছে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে— মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিনা মূল্যে লবণ বিতরণ করতে হবে এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে লবণের প্রাপ্যতা নির্ধারণ ও পরিবহনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
এ ছাড়া দেশব্যাপী পশুর চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে এবং সঠিক নিয়মে পশু জবাই ও চামড়া ছাড়ানোর বিষয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাণীর চামড়া দীর্ঘক্ষণ ভালো রাখতে এবং পচন রোধ করতে সঠিক পরিমাণে লবণ ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। যথাযথভাবে লবণ ব্যবহার না করার কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়।বাংলাদেশে কোরবানির পশুর চামড়া সাধারণত কোরবানিদাতারা মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দান করে দেন। কিন্তু চামড়ার বিশেষ দাম না পাওয়ায় চামড়া সংরক্ষণের জন্য মাদ্রাসা বা এতিমখানার পক্ষ থেকে টাকা খরচ করে লবণ কেনা হয় না। এতে অনেক মূল্যবান চামড়া নষ্ট হয়ে যায়।
লবণের পরিমাপ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ট্যানারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতিটি মাঝারি থেকে বড় আকারের গরুর চামড়া সংরক্ষণে ৭ থেকে ৮ কেজি লবণ লাগে। কোনো কোনো গরুর চামড়ায় ১০ কেজি পর্যন্ত লবণের প্রয়োজন হয়। আর প্রতিটি ছাগল বা ভেড়ার চামড়া সংরক্ষণে ৩ থেকে ৪ কেজি লবণ প্রয়োজন হয়।
পশু কোরবানির পরিসংখ্যান ও চাহিদা
গত ২০২৫ সালের কোরবানির ঈদের পর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, ওই বছর ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টি পশু কোরবানি হয়েছিল। এর মধ্যে গরু-মহিষ কোরবানি হয়েছিল ৪৭ লাখ ৫ হাজার ১০৬টি। ছাগল-ভেড়া ৪৪ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮টি এবং অন্যান্য (উট, দুম্বা ইত্যাদি) ৯৬০টি প্রাণী কোরবানি হয়েছিল।
এদিকে, গত ৩ মে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে কোরবানির পশুর চাহিদা নিরূপণ ও সরবরাহবিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, আসন্ন কোরবানিতে দেশে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি পশুর চাহিদা রয়েছে।
