মিরপুরে শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টোররুমে আগুনের ঘটনায় ‘কর্মীরাই’ জড়িত, গ্রেপ্তার ৩
রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টোররুমে আগুন দেওয়ার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা সবাই ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মী বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গ্রেপ্তাররা হলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচ্ছন্নতাকর্মী (মাস্টার রোল) মো. আসমাউল ইসলাম, গবেষণা কর্মকর্তা ও স্টোর ইনচার্জ মো. জিন্নাত আলী বিশ্বাস এবং স্টোরকিপার (মাস্টার রোল) মো. হুমায়ুন কবির খান। এ ঘটনায় হৃদয় নামের আরও একজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ।
শনিবার (২ মে) মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মোস্তাক সরকার।
তিনি জানান, শুক্রবার (১ মে) রাত ২টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দ্বিতীয় তলার স্টোররুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই স্টোররুমে ৭৩৫টি ল্যাপটপ ছিল। আগুনে ৩৩টি ল্যাপটপ আংশিক পুড়ে যায়, ২৯টি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ১৪০টি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এছাড়া ৪৫০টি ল্যাপটপ অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং ৮৩টি ল্যাপটপের খোঁজ মেলেনি। ল্যাপটপ ছাড়াও ব্যাগসহ অন্যান্য এক্সেসরিজ পুড়ে যায়। এতে আনুমানিক ২ থেকে ৩ কোটি টাকার সরকারি সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।
এ ঘটনায় অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি মামলা করা হয়। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মিরপুর মডেল থানা পুলিশ প্রথমে পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. আসমাউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আগুন দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মো. জিন্নাত আলী বিশ্বাস ও মো. হুমায়ুন কবির খানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিসি মোস্তাক সরকার বলেন, "গ্রেপ্তারকৃতরা সরকারি ভবন ও সেখানে সংরক্ষিত সম্পদের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে আগুন দিয়েছে। আগুন দেওয়ার মূল কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হবে।"
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "প্রতিষ্ঠানের চার-পাঁচজন মিলে আগুন দেওয়ার পরিকল্পনা করে এবং আসমাউল ইসলাম আগুন দেন। তাকে আর্থিক প্রলোভন দেখানো হয়। আগুন দেওয়ার জন্য ৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয় এবং অগ্রিম হিসেবে ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। সেই টাকা দিয়ে তিনি বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনে আনেন।"
