সংরক্ষিত নারী আসন: নুসরাত তাবাসসুমের গেজেট স্থগিত চেয়ে ইসিকে চিঠি মনিরা শারমিনের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের একটি পদে এনসিপি নেত্রী ও জামায়াত জোটের মনোনীত প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের গেজেট প্রকাশ না করার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানিয়েছেন একই দলের আরেক নেত্রী ও প্রার্থী মনিরা শারমিন। তার দায়ের করা রিট মামলার শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের গেজেট প্রকাশ থেকে বিরত থাকার জন্য রোববার এ আবেদন করা হয়।
মনিরা শারমিন তার আবেদনে উল্লেখ করেন, উচ্চ আদালতের আদেশের আগে নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতিকে নির্বাচিত ঘোষণা করে যেন গেজেট প্রকাশ না করা হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া চিঠিতে মনিরা শারমিন বলেন, "জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কর্তৃক মনোনীত হয়ে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছি। অতঃপর গত ২৩ এপ্রিল বেআইনিভাবে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ওই আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে আমি নির্বাচনী আপিল দায়ের করি। অতঃপর আমার আপিল মামলাটিও বেআইনিভাবে ২৮ এপ্রিল খারিজ করে দেওয়া হয়।"
তিনি চিঠিতে আরও উল্লেখ করেন, "রিটার্নিং কর্মকর্তার ২৩ এপ্রিলের আদেশ এবং ২৭ এপ্রিলের আপিল আদেশের বিরুদ্ধে আমি মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন দায়ের করি (রিট নং-৫৪৬১/২৬)। ওই রিট মামলাটি আগামীকাল ৪ মে হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি হবে। অতএব ওই মামলার শুনানি না হওয়া পর্যন্ত অপর প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের প্রার্থিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়া আবশ্যক। যেহেতু আমার দল প্রথমে আমাকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিয়েছে, সেহেতু মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের জন্য নির্বাচন কমিশনের অপেক্ষা করা উচিত। অন্যথায় আমি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবো।"
এ বিষয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান গণমাধ্যমকে বলেন, "মনিরা শারমিনের আবেদন পেয়েছি। তার রিট মামলার শুনানি সোমবার হবে বলে আবেদনে জানানো হয়েছে। আর নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতির মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধ হওয়ার পর কমিশনের সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।"
আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি অনুযায়ী রাজনৈতিক দল ও জোটের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। সে অনুযায়ী এবার বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র জোট ১টি আসন পায়। জামায়াত জোটের ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে এনসিপি থেকে মনোনীত হয়েছিলেন মাহমুদা আলম মিতু ও মনিরা শারমিন।
গত ২৩ এপ্রিল বাছাইয়ের সময় মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ (১) (চ) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসরের পর তিন বছর অতিবাহিত না হলে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন। মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে অফিসার পদে যোগ দিয়ে ডিসেম্বরে চাকরি ছাড়েন। সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছর পার না হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হতে পারে—এমন আশঙ্কায় ২১ এপ্রিল শেষ মুহূর্তে নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতিকে মনোনয়ন দেয় এনসিপি। ওই দিন মনোনয়নপত্র জমার নির্ধারিত সময় বিকেল ৪টা পর্যন্ত থাকলেও জ্যোতির মনোনয়নপত্র জমা পড়ে ১৯ মিনিট পর। ফলে রিটার্নিং কর্মকর্তা তা গ্রহণ করেননি। পরে নুসরাত তাবাসসুম হাইকোর্টে রিট করলে আদালত তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই আদেশের প্রেক্ষিতে নুসরাতের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে, মনিরা শারমিন তার প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করলেও গত ২৭ এপ্রিল তা নাকচ হয়ে যায়। এরপরই তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন, যার শুনানি আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০টি পদের মধ্যে ৪৯ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করে গত বৃহস্পতিবার গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে বিএনপির ৩৬ জন, ১১-দলীয় জোটের ১২ জন এবং স্বতন্ত্র ১ জন রয়েছেন। আইনি জটিলতা থাকায় এনসিপির এই একটি আসনের ফলাফল ও গেজেট এখনো স্থগিত রয়েছে। নুসরাত তাবাসসুমের নাম গেজেট আকারে প্রকাশিত হলে তিনি জামায়াত জোটের ১৩তম সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। তবে মনিরা শারমিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে এখন হাইকোর্টের আদেশের দিকে তাকিয়ে আছে কমিশন।
