কুষ্টিয়ায় পীর শামীম হত্যা মামলায় স্কুল শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পীর শ্রী শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমান (৬০) হত্যা মামলায় আলমগীর হোসেন (১৬) নামে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার আলমগীর ওই গ্রামের তছিকুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে এই গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। আলমগীরের পরিবারের অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে গেলেও পরে এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আলমগীরের বাবা তছিকুল ইসলাম বলেন, 'রাতে পুলিশ বাড়িতে এসে আমার ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার পর অনেকেই সেখানে দেখতে গিয়েছিল, আমার ছেলেও গিয়েছিল। এখন তাকে আসামি করা হয়েছে।'
এ বিষয়ে আলমগীরের খালা রোজিনা খাতুন জানান, রাতে আলমগীর নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। পুলিশ মূলত তার চাচাতো ভাই শাওনকে গ্রেপ্তার করতে এসেছিল। কিন্তু তাকে না পেয়ে আলমগীরকে ঘর থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায় তারা।
তিনি বলেন, 'কথাবার্তার শব্দে আলমগীরের মা আলিয়া খাতুন ঘুম থেকে জেগে বাইরে এসে দেখেন, পুলিশ তার ছেলেকে ধরে রেখেছে। জিজ্ঞাসা করলে পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় নেওয়া হচ্ছে এবং সকালে নিয়ে যেতে বলা হয়। কিন্তু পরদিন থানায় গেলে তাকে হত্যা মামলার আসামি বলা হয়।'
রোজিনা খাতুন দাবি করেন, ঘটনার দিন আলমগীর ঘটনাস্থলে ছিল না। সে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরে মাকে কাজে সাহায্য করছিল। পরে হামলার খবর পেয়ে মা-বাবার সঙ্গেই ঘটনাস্থলে যায়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, 'প্রকৃত অপরাধীদের অনেকে চিহ্নিত হলেও তাদের গ্রেপ্তার না করে আমার নাবালক ভাতিজাকে আটক করা হয়েছে।'
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আলমগীরকে শনাক্ত করার পরই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
এর আগে একই মামলায় গত রোববার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা সবজি বিক্রেতা বিপ্লব হোসেন (২৬) ও আলিফ ইসলাম (২৩) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল দুপুরে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের দরবারে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে কক্ষ থেকে টেনে বের করে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে।
