চট্টগ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রী-ছেলে গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় প্রবাস ফেরত মো. আলমগীরকে (৪০) হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শুক্রবার (১ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল রাত দেড়টার দিকে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার উত্তর পদুয়া কামারটিলা এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন মো. আলমগীর। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস)-এর তত্ত্বাবধানে এবং মীরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়।
তদন্তকারী দল প্রযুক্তিগত তথ্য ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করে। এরই প্রেক্ষিতে শুক্রবার (১ মে) ভোরে উত্তর পদুয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিহতের স্ত্রী রহিমা বেগম (৩৫) ও ছেলে রবিউল হাসান রাকিবকে (১৮) গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে ঘটনার রাতে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে আলমগীর তার স্ত্রীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন এবং দা দিয়ে ভয় দেখান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্ত্রী ও ছেলে ঘরে থাকা ধারালো 'ধামা দা' দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য তারা প্রাথমিকভাবে প্রতিবেশীদের কাছে দাবি করেছিলেন যে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়েছে। তবে পুলিশের তদন্তে তাদের বক্তব্যে অসংগতি ধরা পড়লে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের ইতিমধ্যে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
