চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত: এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী
চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন শেষে টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও মিডিয়াতে চট্টগ্রাম নগর ডুবে যাওয়ার যে তথ্য ছড়িয়েছে তা "মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও অতিরঞ্জিত"।
প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা, বিভাগীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরেজমিন পরিদর্শনে নগরের অধিকাংশ এলাকায় উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা পাওয়া যায়নি। শুধু প্রবর্তক মোড় এলাকায় সিডিএর চলমান উন্নয়নকাজের কারণে সাময়িক জলজট দেখা গেছে।
তিনি জানান, খাল সংস্কার প্রকল্প চলমান থাকায় কিছু এলাকায় পানি প্রবাহে বাধা তৈরি হয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতা আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে অপসারণ করে পানি চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। বর্ষা শেষে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড নগরের ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে এবং প্রায় ৬ হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। বাকি খালগুলোর কাজ চলমান রয়েছে এবং চলতি বছরের মধ্যেই শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমেছে। আগামী মৌসুমে এটি ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।"
প্রতিমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), পানি উন্নয়ন বোর্ড, বন্দর কর্তৃপক্ষসহ একাধিক সংস্থা পৃথকভাবে কাজ করায় সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা দেয়। এ সমস্যা সমাধানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের নেতৃত্বে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করা হবে। ঢাকায় ফিরে এ বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে তিনি জানান।
তার ভাষায়, "ট্রাফিক, জলাবদ্ধতা বা অন্য যেকোনো নাগরিক সমস্যা—এই কমিটির মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সমাধান করা যাবে।"
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গত এক বছরে সমন্বিত উদ্যোগের ফলে নগরের জলাবদ্ধতা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমেছে। চলমান প্রকল্পগুলো শেষ হলে তা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে উন্নীত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মেয়র জানান, নগর ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তি সংযুক্ত করতে আগামী ১৫ মে একটি সমন্বিত নাগরিক সেবা অ্যাপ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা সরাসরি ময়লা-আবর্জনা, উন্মুক্ত ম্যানহোল বা জলাবদ্ধতার তথ্য জানাতে পারবেন।
তিনি বলেন, "শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন যথেষ্ট নয়, নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ।"
সভায় নগরের জলাবদ্ধতা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবার উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে বিভিন্ন সেবা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
