হামে আক্রান্ত ৭৪ শতাংশ শিশুই টিকা পায়নি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
দেশে হাম আক্রান্ত শিশুদের অন্তত ৭৪ শতাংশ টিকা পায়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীতে এক ব্রিফিংয়ে কর্মকর্তারা জানান, আক্রান্তদের মধ্যে ১৪ শতাংশ হামের টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছে, আর ১২ শতাংশ দুই ডোজ নেওয়ার পরও হামে আক্রান্ত হয়েছে।
এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
একই সময়ে, সারা দেশে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে ১,৩১৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় ৮৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ওই ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ইউনিসেফ বাংলাদেশের হেলথ ম্যানেজার (ইমিউনাইজেশন) ডা. রিয়াদ মাহমুদ।
তিনি বলেন, গত ৫ এপ্রিল একযোগে ৩০টি উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সরকার। ইতোমধ্যে তিন সপ্তাহ পার হয়েছে। যেসব উপজেলায় এই কর্মসূচি চালানো হয়েছে, সেখানে নতুন রোগী পাওয়া যাচ্ছে না। এতে ধারণা করা যাচ্ছে, মে মাসের শেষ নাগাদ হামের প্রকোপ কমে আসতে পারে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, "মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে হামে শিশু মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে না। পাশাপাশি পরীক্ষার কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে রোগ শনাক্তে সময় লাগছে।"
তিনি আরও জানান, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) টিকা আগামী মাসের শুরুতেই দেশে পৌঁছাবে। বর্তমানে সব হাসপাতালে আইসোলেশন ব্যবস্থা চালু থাকায় আক্রান্তদের এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের সুযোগ নেই।
প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, "আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই সংক্রমণের সর্বোচ্চ পর্যায় অতিক্রম করে পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাবে।"
চলতি বছর দেশে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে অন্তত ৪৭ জন শিশু হাম সংক্রমণে মারা গেছে।
এছাড়া, হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২২৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় মোট ৪,৯৪৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
সর্বশেষ স্বাস্থ্য বুলেটিন অনুযায়ী, সারা দেশে ৩৫,৯৮০টি সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২০,৮২২ জন চিকিৎসা নিয়ে ইতিমধ্যে হাসপাতাল ছেড়েছে।
