রাঙামাটিতে গভীর রাতে মাটি চাপা দেওয়া হাতির মাংস চুরির চেষ্টা
রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় মাটি চাপা দেওয়া একটি বন্য হাতির কবর খুঁড়ে মাংস ও হাড় চুরির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। তবে বন বিভাগের ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমের (ইআরটি) প্রতিরোধের মুখে শেষ পর্যন্ত তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে ২০–২৫ জনের একটি দল কোদাল ও দা নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। তারা মাটিচাপা দেওয়া হাতিটির কবর খুঁড়ে দেহ থেকে মাংস নেওয়ার চেষ্টা করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় দুর্বৃত্তরা সুযোগ নিয়ে হাতিটির শুঁড় ও পায়ের অংশ কেটে নিয়ে যায়।
এর আগে, ময়নাতদন্ত শেষে হাতিটিকে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা ইআরটি টিম লিডার জয়নাল পিসি বলেন, 'কোদাল ও দা নিয়ে একাধিক ব্যক্তি রাতে মাংস চুরি করতে আসে। আমাদের প্রতিরোধের মুখে তারা পালিয়ে যায়।'
এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকার সুযোগে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। বন বিভাগ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত শেষে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে লংগদু উপজেলায় মৃত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া বন্য হাতিটিকে মাটি চাপা দেওয়া হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের পাবলাখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম টিবিএসকে বলেন, 'হাতিটির মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। রিপোর্ট হাতে এলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
তিনি বলেন, 'মাটি চাপা দেওয়ার পরেও একটি চক্র গতকাল রাতে মাংস ও হাড় চুরি করতে এসেছিল। এটি আমরা জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
