নারীদের স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, দেশে নারী শিক্ষার প্রসারে মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত অবৈতনিক বা বিনামূল্যে করা হবে। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, জনগণের শান্তি বিঘ্নিত করে দেশে আর কাউকে হরতাল করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রায় ২৮ মিনিট দীর্ঘ বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, 'দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত মা-বোনদের শিক্ষিত করার জন্য মাধ্যমিক (মেট্রিক) পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তিনি উচ্চমাধ্যমিক (ইন্টারমিডিয়েট) পর্যন্ত ফ্রি করে দেন। তার সেই অসমাপ্ত কাজ পূর্ণ করতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এখন থেকে মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে করা হবে।'
নারীদের কল্যাণে নতুন পদক্ষেপের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ফ্যামিলি কার্ডের পরিধি পর্যায়ক্রমে কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি রান্নার কষ্ট লাঘবে নারীদের জন্য এলপিজি গ্যাস কার্ড চালু করা হবে।' এছাড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া দেশের বিভিন্ন কল-কারখানা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পুনরায় চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
রাজনৈতিক বিরোধীদের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, 'যারা অতীতে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছে, তারা এখন বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলছে। তারাই এখন ফ্যাসিবাদের সাথে গোপনে বৈঠক করছে। যারা স্বৈরাচারের সাথে ঢাকার বাইরে মিটিং করে, তারা জনগণের জন্য কখনো কাজ করে না। যারা ৭১ ও ২০০৮ সালে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে, তারা ২০২৬ সালেও নতুন করে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'দেশের মানুষের শান্তি নষ্ট করার সুযোগ কাউকে দেবে না বিএনপি। অতীতে আমরা ১৭৩ দিন হরতাল দেখেছি, সেই সুযোগ আর কাউকে দেওয়া হবে না।'
জনসভার আগে প্রধানমন্ত্রী শার্শায় ঐতিহাসিক 'উলশী খাল' পুনঃখনন কাজ, যশোর শহরতলীর হরিনারবিলে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি ভবনের উদ্বোধন করেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগম, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহেদ আলম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
বেলা আড়াইটায় শুরু হওয়া এই জনসভায় যশোর ও আশপাশের জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ যোগ দেন।
