মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ে প্রশাসকদের দায়িত্ব পালনের ওপর বিএনপির নজর, একক প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা
দলীয় বিবেচনায় সিটি করপোরেশনগুলোতে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকরা দায়িত্ব পালনে সফল হলে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাদেরকেই বিএনপির মেয়র প্রার্থী করা হতে পারে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।
প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তারা ইতোমধ্যেই অনানুষ্ঠানিকভাবে ভোটারদের কাছে পরিচিত হচ্ছেন—যা কার্যত প্রাথমিক পর্যায়ের প্রার্থী হিসেবে কাজ করছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে বিকল্প প্রার্থীকেও বিবেচনায় রাখা হতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, দায়িত্ব পালনে দক্ষ প্রশাসকদের প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি নির্বাচিত কিছু ক্ষেত্রে সাবেক মেয়রদেরও পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকেও পুনরায় মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলীয় সমর্থন দেওয়া হতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, "সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অতীতে যেভাবে হয়েছে, সেভাবেই হবে। তবে প্রশাসকদের সেখানে কী ভূমিকা থাকবে, তা এখনো জানা নেই। দলীয় ফোরামেও এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।"
বিএনপি মনে করছে, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। জয় পেতে দলীয় ভোটের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ইমেজও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই আগেভাগেই প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভোটারদের কাছে পরিচিত করা হচ্ছে।
জনগণের সেবা করার মাধ্যমে নির্বাচনের আগে জনপ্রিয়তা যাচাই ও ভোটারের আস্থা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন এই নেতারা। যারা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারবেন, তাদেরকেই মেয়র প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত সমর্থন দেওয়া হবে।
এদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এবার দলীয় প্রতীক থাকছে না—এ বিষয়ে শিগগিরই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। অতীতের মতো বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করে দলীয় সমর্থন নেবেন মেয়র প্রার্থীরা। এরপর দলীয় নেতা-কর্মীরা তাদের পক্ষে কাজ করবেন।
বিএনপি সূত্র বলছে, সিটি করপোরেশনগুলোতে একক প্রার্থী নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা
গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, খুলনা, সিলেট, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং দক্ষিণের প্রশাসক আব্দুস সালাম। জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম। পরে দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি সরে দাঁড়ান। সে সময় তাকে ঢাকার মেয়র প্রার্থী করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে দলীয় সূত্র জানায়। অন্যদিকে শফিকুল ইসলাম মিল্টন ঢাকা-১৫ আসন থেকে নির্বাচন করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের কাছে পরাজিত হন।
ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র পদে প্রার্থী হতে আগ্রহী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস এবং অবিভক্ত ঢাকার সাবেক ডেপুটি মেয়র কাজী আবুল বাশার।
উত্তর সিটিতে প্রার্থী হতে চান বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল। তিনি ২০২০ সালের নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এছাড়া ঢাকা-১১ আসনের পরাজিত প্রার্থী এম এ কাইয়ূমও প্রার্থী হতে আগ্রহী।
ঢাকার বাইরে খুলনা সিটি করপোরেশনে প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেটে জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুরে মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. শওকত হোসেন সরকার।
এছাড়া গত ১৪ মার্চ বরিশাল, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, রংপুর ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।
বরিশালে দায়িত্ব পেয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন, রাজশাহীতে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, ময়মনসিংহে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রুকুনোজ্জামান রোকন, রংপুরে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মাহফুজ উন নবী চৌধুরী এবং কুমিল্লায় মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা।
