চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সংঘর্ষ: ছবি ও ভিডিও দেখে হামলাকারীদের চিহ্নিতের চেষ্টা চলছে
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্র হাতে অংশ নেওয়া কয়েকজনের পরিচয় সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংঘর্ষে রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সক্রিয় ছিলেন উভয় পক্ষের একাধিক নেতা-কর্মী, যাদের মধ্যে কয়েকজন বহিরাগতও ছিলেন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সংঘর্ষ চলাকালে জিন্সের পোশাক পরা এক যুবককে ডান হাতে বাঁকানো রামদা নিয়ে প্রতিপক্ষের দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায়। পরে জানা যায়, তিনি মির্জা ফারুক—ওমর গণি এমইএস বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব। সংঘর্ষের সময় আরও কয়েক যুবককে ধারালো দেশীয় অস্ত্র হাতে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হেলমেট পরা এবং কালো পোশাকধারী এক যুবকের হাতে কিরিচ ছিল। এছাড়া লাঠি হাতে দেখা গেছে মো. তামিম নামে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের এক নেতাকে। একই সময়ে লাঠি হাতে তামাকুমণ্ডি লেন বণিক সমিতির প্রচার সম্পাদক ও জামায়াত-সমর্থক মোহাম্মদ ছাদেক হোসাইনকেও সংঘর্ষ চলাকালে লাঠিহাতে সক্রিয় অবস্থায় দেখা যায়।
সংঘর্ষে ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ পাহাড়তলী ১২ নং উত্তন ওয়ার্ড সভাপতি ও সিটি কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম গুরতর আহত হন। তার পায়ের গোড়ালি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে তাকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বুধবার ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এছাড়াও সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকজন যুবকের হাতে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দেখা গেলেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশ জানায়, ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও দুই পক্ষের কেউই এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অভিযোগ দায়ের না করায় তদন্ত কার্যক্রম তেমনভাবে এগোতে পারছে না।
এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় কলেজ ক্যাম্পাসের একটি গ্রাফিতি পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে। দেয়ালে লেখা 'ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস' থেকে 'ছাত্র' শব্দটি মুছে 'গুপ্ত' শব্দ লেখা হলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে বাগ্বিতণ্ডার পর একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ ঘটনার পর উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে। ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রদল বলছে, 'গুপ্ত রাজনীতি' নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টির জন্যই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক বহিরাগত অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আশপাশের ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, বহিরাগতদের উপস্থিতিই সংঘর্ষকে আরও সহিংস করে তোলে।
ঘটনার পরদিন ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, কলেজের ভেতরে ও বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম এবং পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
কলেজের অধ্যক্ষ আবু ছালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি দক্ষিণ) টিবিএসকে বলেন, "সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশীয় অস্ত্র হাতে কিছু ব্যক্তির ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে চিহ্নিত কিছু ব্যক্তির নামও আসছে। আমরা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছি। এছাড়াও এই ঘটনার পর নগরীতে অতিরিক্ত গোয়েন্দা নজরদারি করা হচ্ছে।"
