চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল-শিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৬
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই উত্তেজনা বিকেলে নতুন করে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেন, কলেজের একটি ভবনের দেয়ালে গ্রাফিতিতে 'ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস' লেখা ছিল। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে ছাত্রদলের কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী সেখানে গিয়ে 'ছাত্র' শব্দটি মুছে দিয়ে 'গুপ্ত' শব্দটি লিখে দেন।
তিনি জানান, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ সকালে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় উত্তেজনা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিকেল ৪টার দিকে
চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক জাহিদুল আলম জয় টিবিএসকে বলেন, 'আগের দিন কলেজে 'জুলাই গ্রাফিতি' মুছে ফেলে সেখানে ছাত্রশিবিরকে উদ্দেশ্য করে উস্কানিমূলক দেয়াললিপি লেখা হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিলে শিবিরের কর্মীরা প্রতিবাদ জানায়।' এর জের ধরে সকালে সিটি কলেজে গেলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা শিবিরের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, 'এ ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করলে ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা আবারও হামলা চালায়। এতে অনার্সের শিক্ষার্থী ও শিবিরের কর্মী আশরাফুলের পা কুপিয়ে পায়ের গোড়ালি কেটে দেওয়া দেয় এবং গুরুতর জখমসহ আরও কয়েকজন আহত হন।'
অন্যদিকে, সংঘর্ষের বিষয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সৌরভ প্রিয় পাল। তিনি টিবিএসকে বলেন, 'শিবির সবসময় ক্যাম্পাস দখলের রাজনীতি করে। তারা ক্যাম্পাস দখল করতে এলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঢাল হয়ে দাঁড়ায়। পরে শিবিরের নেতা-কর্মীরাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা গিয়ে প্রতিহত করলে শিবির কর্মীরা ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা কারও ওপর হামলা করেনি।'
জানা যায়, সকালের সংঘর্ষের পর সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত হলেও বিকেল ৪টার দিকে পুনরায় ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে একে অপরকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। কলেজ ক্যাম্পাসের সামনের সড়কেও দফায় দফায় ঢিল ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে।
এই পরিস্থিতিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার স্বার্থে দিনের সব ক্লাস ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলমান ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ ও মাস্টার্সের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে কলেজ সূত্রে জানা গেছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, 'ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটি দুই পক্ষের কলেজের ভেতরকার অভ্যন্তরীণ বিরোধ থেকে সৃষ্টি হয়েছে। আমরা হতাহতদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছি।'
তিনি জানান, এ ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১ জনের অবস্থা গুরুতর। আহতরা নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
