‘গুজব-অপতথ্য প্রচার’: সাদিক কায়েম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ছাত্রদলের আলটিমেটাম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে গুজব ও অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে এই দাবি সংবলিত একটি আবেদনপত্র বা স্মারকলিপি তুলে ধরা হয়।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন সাংবাদিকদের বলেন, 'আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নামকে ব্যবহার করে যে পেজগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এর সাথে জড়িত সাদিক কায়েম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উপাচার্যের কাছে আবেদন করেছি।'
অপতথ্য ছড়ানোর পেছনের কারণ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে সবচেয়ে দুঃখের বিষয়, এই মিথ্যা-প্রোপাগান্ডামূলক রাজনীতির পৃষ্ঠপোষক এবং অর্থের যোগানদাতা-শক্তিদাতা একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতৃত্ব এবং নারী নেতৃবৃন্দকে নিয়ে যত ধরনের অশালীন ভাষায় কুৎসা রটানো যায়, সবকাজই করে আসছে। এটি জাতির সামনে উন্মোচিত হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্রসংগঠন এবং জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ, তাদেরকেও টার্গেট করে করে বিভিন্ন ধরনের অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। তার বিপরীতে আমরা ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে এই ক্যাম্পাসে যে ঘৃণার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই বিষয়গুলো নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।'
ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য এদের দায়ী করে শিপন বলেন, 'শুধুমাত্র এই গোষ্ঠীটির প্রোপাগান্ডামূলক, মিথ্যা রাজনীতির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে গুপ্ত রাজনীতি।'
স্মারকলিপিতে উল্লেখিত সুনির্দিষ্ট দাবি
উপাচার্যকে দেওয়া ওই আবেদনে বলা হয়, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ' ও 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ-২'-সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সকল গ্রুপ ও পেজকে কড়া অনলাইন নজরদারির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি 'DU Insider', 'ঢাবি কণ্ঠস্বর' (বর্তমান নাম: 'Daily DUCSU'), 'DU Observer' (বর্তমান নাম: 'Voice of Gen Z')-সহ সকল গুজব ও অশালীন অপতথ্য প্রচারকারী ফেসবুক গ্রুপ ও পেজসমূহকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনে রাষ্ট্রীয় সংস্থাসমূহের সাথে সমন্বয় করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এছাড়া আবেদনে সুনির্দিষ্ট কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ফয়সাল উদ্দিন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও 'প্রশ্নবিদ্ধ' বিজয় একাত্তর হল সংসদের ভিপি হাসানুল বান্নাহ এবং 'প্রশ্নবিদ্ধ' ডাকসু'র সহ-সভাপতি ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)-সহ উসকানিমূলক গুজব ও অপতথ্য প্রচারের সাথে সম্পৃক্ত সকলের বিরুদ্ধে প্রশাসন কর্তৃক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
একইসঙ্গে প্রয়োজনবোধে রাষ্ট্রীয় সংস্থাসমূহের সাথে সমন্বয় করে গুজব ও অপতথ্য প্রচারকারী ফেসবুক গ্রুপ ও পেজসমূহ বন্ধের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
