ইস্টার্ন রিফাইনারির ২য় ইউনিটের দরপত্র মে মাসে, ২০২৯ সালে ট্রায়াল রান শুরুর লক্ষ্য: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
সরকার আগামী মে মাসের মধ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের দ্বিতীয় ইউনিটের (ইআরএল-২) জন্য দরপত্র আহ্বান করতে যাচ্ছে। ২০২৯ সালের শুরুর দিকে এর পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
গত ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রামে ইআরএল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'বর্তমান সরকারের মেয়াদের মধ্যেই এই প্রকল্পটিকে বাস্তবায়নের একটি দৃশ্যমান পর্যায়ে নিয়ে আসার লক্ষ্য রয়েছে আমাদের। এটি চালু হলে দেশের অভ্যন্তরে অপরিশোধিত তেল শোধনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং জ্বালানি আমদানির উৎসগুলোতেও বৈচিত্র্য আসবে।'
তিনি আরও জানান, এই সম্প্রসারণের ফলে বাংলাদেশ আরও বেশি সংখ্যক দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে পারবে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও আঞ্চলিক সংকটের ঝুঁকি মোকাবিলা করা সহজ হবে।
প্রস্তাবিত ইআরএল-২ ইউনিটের বার্ষিক শোধন ক্ষমতা হবে প্রায় ৩০ লাখ টন, যা বর্তমান কেন্দ্রের সক্ষমতার দ্বিগুণ। এটি দেশের সামগ্রিক জ্বালানি প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতাকে ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেবে।
এক দশকেরও বেশি সময় আগে এই প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হলেও অর্থায়ন এবং বাস্তবায়ন সংক্রান্ত জটিলতায় এটি বারবার পিছিয়ে গেছে।
১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড বর্তমানে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ভিত্তি। এর বর্তমান বার্ষিক শোধন ক্ষমতা প্রায় ১৫ লাখ টন। বর্তমানে বাংলাদেশের অপরিশোধিত তেলের সিংহভাগই আমদানি করা হয় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে মার্চ ও এপ্রিল মাসে তেলের জাহাজ আসায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। তবে আমদানি-নির্ভর অনেক দেশই এখন একই ধরনের চাপের সম্মুখীন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বর্তমানে দেশে পরিশোধিত তেলের মজুত সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, 'বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানি (জেট ফুয়েল) প্রায় ছয় সপ্তাহের জন্য পর্যাপ্ত মজুত আছে। এপ্রিল ও মে মাসের চাহিদা মেটানোর মতো সরবরাহ আমাদের হাতে রয়েছে এবং জুন মাসের পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।'
ইআরএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত জানান, বর্তমানে রিফাইনারির দুটি ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় কার্যক্রম কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। তবে পেট্রোল ও বিটুমিন উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও জানান, সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে প্রায় ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেলবাহী একটি জাহাজ চলতি মাসের শেষের দিকে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি সচিব মো. সাইফুল ইসলাম ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরীসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
