রিফাইনারির ‘সক্ষমতা কমলেও’ দেশে জ্বালানি সংকট নেই: জ্বালানি বিভাগ
অপরিশোধিত তেল [ক্রুড তেল] সরবরাহে বিঘ্নের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) সক্ষমতা কমে গেলেও দেশে জ্বালানি সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, পরিশোধিত জ্বালানির আমদানি বাড়ানোর কার্যকর কৌশল নেওয়ার ফলে দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা সুরক্ষিত রয়েছে এবং সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আগেই বলেছি, বর্তমানে অকটেন ও পেট্রলের মজুদ আগামী অন্তত দুই মাসের চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট। আমাদের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। এ বিষয়ে আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি।
জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র বলেন, ক্রুড তেলের ঘাটতির কারণে ইস্টার্ন রিফাইনারি 'লো ফিড'-এ চলছে। তবে এর ফলে সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
তিনি বলেন, আমাদের দ্বিমুখী কৌশল রয়েছে। একদিকে আমরা অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি, অন্যদিকে দেশের শতভাগ চাহিদা মেটাতে পরিশোধিত জ্বালানির আমদানি বাড়ানো হয়েছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল ও নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে।
এর আগে ইস্টার্ন রিফাইনারির এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধের পর অপরিশোধিত তেলের ঘাটতির কারণে রিফাইনারির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে প্রভাব পড়েছে, যার কারণে এ ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
মনির হোসেন চৌধুরী জানান, মার্চ ও এপ্রিলে প্রায় তিন লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানি বিলম্বিত হয়েছে।
সৌদি আরব থেকে আসা এক লাখ টন অ্যারাবিয়ান লাইট অপরিশোধিত তেলবাহী একটি জাহাজ নিরাপত্তাজনিত কারণে রাস তানুরা বন্দরে আটকে আছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আরেকটি চালান স্থগিত করা হয়েছে।
তবে বাজার স্থিতিশীল রাখতে জ্বালানি বিভাগ কয়েকটি আগাম পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ১ লাখ টন অ্যারাবিয়ান লাইট অপরিশোধিত তেলের একটি নতুন চালান ২০ এপ্রিল বিকল্প পথে রওনা হয়েছে এবং এটি ২ থেকে ৩ মে'র মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এছাড়া মে মাসের জন্য সৌদি আরবের কাছে অতিরিক্ত ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল চাওয়া হয়েছে এবং মজুদ শক্তিশালী করতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে আরও ১ লাখ টন সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দেশের একমাত্র শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সাধারণত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে, যা দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। বাকি ৮০ শতাংশ চাহিদা পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য সরাসরি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।
জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ইস্টার্ন রিফাইনারি দেশের ডিজেলের প্রায় ১৫ শতাংশ এবং পেট্রোলের প্রায় ১২ শতাংশ চাহিদা পূরণ করেছে। পাশাপাশি ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন ও বিটুমিনের মতো উপজাত পণ্যও সরবরাহ করেছে ইস্টার্ন রিফাইনারি।
