কার্বন ক্রেডিট বিক্রি করে বছরে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাওয়া সম্ভব: ড. সাইমুম পারভেজ
ড. সাইমুম পারভেজ। বিএনপি চেয়ারপারসনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটির বিশেষ সহকারী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য। বর্তমানে দলটির থিঙ্কট্যাংক এবং বিএনপির কনটেন্ট জেনারেশন টিমের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ছিলেন বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কমিটিতে। সরকারের ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ প্রকল্পের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট হিসেবে কাজ করছেন। সম্প্রতি তিনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে এক বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন। তার সঙ্গে কথা বলেছেন আকরাম হোসেন ও অনন্য আফরোজ।
টিবিএস: সরকারের বয়স প্রায় দুই মাস হতে চলছে। সব মিলে বিএনপির সরকারের মূল্যায়ন কীভাবে করবেন?
ড. সাইমুম পারভেজ: ইলেকশনের আগে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম—তখন অনেকেই মনে করেছেন যে এগুলো কথার কথা। কিন্তু সরকার গঠনের প্রথম এক মাসের মধ্যেই মূল প্রজেক্ট—যেমন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী দেওয়া শুরু করেছে। এসব প্রজেক্ট কিন্তু স্বল্প ব্যয়ের প্রজেক্ট না। সেটার জন্য একটা দীর্ঘ প্রস্তুতি দরকার। সেটার জন্য একটা দীর্ঘ পরিকল্পনা দরকার। আমরা নির্বাচনের আগেই সেই পরিকল্পনাগুলো করেছিলাম। কিন্তু এটা বিএনপির শুধুমাত্র নির্বাচনী অঙ্গীকার না এবং নির্বাচনের বৈতরণী পার হবার জন্যই শুধু না। এই প্রতিশ্রুতিগুলো দেওয়া হয়েছিল এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তা রেখেছেনও।
সরকারের ৫০ দিনের সফলতা দুইভাবে ভাগ করা যায়। প্রথমত হচ্ছে—সরকারের সফলতা, দ্বিতীয়ত সরকার প্রধানের সফলতা। সরকারের যে সফলতা সেটাতে আমরা দেখেছি যে বিএনপির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রজেক্টগুলো আমরা চালু করতে পেরেছি এবং অলরেডি বেশ কিছু প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ এটার সুফল পাওয়া শুরু করেছে। আমার কাছে মনে হয় যেকোনো সরকারের জন্যই, পৃথিবীতে যেকোনো দেশের জন্যই এটা একটা বড় ধরনের সফলতা। এই প্রজেক্টগুলো এত দ্রুত বাস্তবায়ন করা চাট্টিখানি কথা নয়। এটি অবশ্যই সফলতার একটি বড় উদাহরণ বলেই মনে করি। সরকার গঠন করার আগে থেকেই পলিসি বিষয়ে বিএনপির একটা প্রস্তুতি ছিল। যার কারণে অল্প সময়ের মধ্যে এই প্রস্তুতির একটা রেজাল্ট দেখতে পেয়েছি। যদি প্রস্তুতি না থাকে তাহলে কিন্তু এত দ্রুত বিএনপি সরকার এই প্রজেক্টগুলো চালু করতে পারত না বা জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারত না। সরকারের কিছু চ্যালেঞ্জ এসেছে কিন্তু মোটা দাগে এখন পর্যন্ত বিএনপি সরকার সফল।
দ্বিতীয়ত; সরকার প্রধানের সফলতা। সরকার প্রধানে আমার কাছে মনে হয় সেখানেই সবচাইতে বড় সফল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিদিনের জীবনযাপন এবং সরকার প্রধান হিসেবে তাঁর কার্যক্রমে ম্যাসিভ পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন এবং এটা ভিজিবল পরিবর্তন। আগের প্রধানমন্ত্রীর সাথে তারেক রহমানের প্রতিদিনের কার্যক্রমে একটা বড় ধরনের পার্থক্য দেখতে পাচ্ছি।
টিবিএস: ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী দেওয়ার প্রজেক্ট শুরু হয়েছে। এই প্রজেক্ট কন্টিনিউ চালিয়ে নেওয়ার বিষয়ে অনেকে সংশয় প্রকাশ করেছেন। এই প্রজেক্ট কন্টিনিউ করা সরকারের জন্য চাপ হবে বা বন্ধ হয়ে যাবে কি না?
ড. সাইমুম পারভেজ: এসব প্রজেক্ট নিয়ে আমরা বিস্তারিত গবেষণা করেছি। প্রজেক্টের টাকা কোথা থেকে আসবে সে বিষয়ে আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে। যেমন ফ্যামিলি কার্ডের টাকা আসবে সোশ্যাল সেফটি নেট থেকে। সোশ্যাল সেফটি নেটে অ্যানুয়ালি ১ লক্ষ ১৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকে। এখন আমরা প্রথম ধাপে ৫০ লক্ষ পরিবারকে টাকা দিতে চাচ্ছি। মাসে দুই বা আড়াই হাজার টাকা দিলে মাসে ১ হাজার কোটি টাকা লাগে। বছরে ১২ হাজার কোটি টাকা। আমাদের যে বাজেট সেই বাজেটেই কিন্তু অলরেডি টাকাটা বরাদ্দ আছে। সরকারের বিদ্যমান যে সিস্টেম সেই সিস্টেমেই কিন্তু এই অর্থের জোগান রয়েছে। আমাদের কাজ হচ্ছে এই টাকাটা সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তার মানে এই পরিবর্তনটা মূলত ম্যানেজমেন্টের পরিবর্তন।
টিবিএস: বিএনপির কাছে ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত এক ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল। ৫ আগস্ট থেকে নির্বাচন পর্যন্ত এক ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল। নির্বাচনের পর এখন বিএনপির চ্যালেঞ্জ কী?
ড. সাইমুম পারভেজ: এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা। বিরোধী দলে থাকলে মূল কাজ সমালোচনা ও নীতির মূল্যায়ন করা, যা তুলনামূলক সহজ। কিন্তু সরকারে এসে বাস্তব সমস্যা মোকাবিলা করা, দুর্নীতি দমন, প্রশাসনের অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ এবং দলীয় কাঠামো ঠিক রাখা অনেক বেশি কঠিন। প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছেন—অর্থনীতির ভঙ্গুর অবস্থা কাটিয়ে ওঠা, প্রশাসনিক দুর্বলতা দূর করা এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করার জন্য। তবে সেই প্রচেষ্টার প্রতিফলন সর্বস্তরে দেখা যাচ্ছে কি না, সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কারণ একা একজন নেতার পক্ষে পুরো ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।
এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশের দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা। নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সহ রাষ্ট্রের মূল প্রতিষ্ঠানগুলো যদি স্বাধীন ও কার্যকর না হয়, তাহলে জবাবদিহিতা তৈরি হবে না। সবকিছু যদি এক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল থাকে, তাহলে টেকসই পরিবর্তন আসবে না। তাই দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অনিয়ম দূর করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
টিবিএস: বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা ছিল—এই প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা কী?
ড. সাইমুম পারভেজ: আমরা যখন পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করি, তখন একটি সুপরিকল্পিত কাঠামো নিয়েই এগিয়েছি। বর্তমানে প্রকল্পটি পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। কোন প্রজাতির গাছ লাগানো হবে, কোথায় লাগানো হবে, প্রথম বছরে কত সংখ্যা লাগানো হবে এবং রোপণের পর গাছগুলোর পরিচর্যার দায়িত্বে কারা থাকবে—এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কাজ চলছে।
ইতোমধ্যে আমরা বেশ কিছু কার্যকর ও সম্ভাবনাময় এলাকা চিহ্নিত করেছি। আমরা দেখেছি যে ম্যানগ্রোভ গাছ পরিবেশ থেকে সবচেয়ে বেশি কার্বন শোষণ করে। এই বিবেচনায় উপকূলীয় অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ বনায়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মেঘনা অববাহিকা, হাতিয়াসহ উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকায় নতুন জেগে ওঠা চর রয়েছে, যেখানে এখনো কোনো গাছপালা নেই। সুন্দরবন থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত, বিশেষ করে মেঘনা অববাহিকায় হাজার হাজার হেক্টর নতুন ভূমি তৈরি হয়েছে। এই চরাঞ্চলগুলোতে জোয়ারের সময় লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে, আবার ভাটার সময় দ্বীপের মতো জেগে ওঠে। এই জমিগুলোকে ধাপে ধাপে পুনরুদ্ধার (reclaim) করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে এমন গাছ লাগানো হবে, যা লবণাক্ত পানিতেও টিকে থাকতে পারে—যেমন বিভিন্ন প্রজাতির ম্যানগ্রোভ।
প্রথম বছরেই প্রায় দেড় কোটি ম্যানগ্রোভ গাছ লাগানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্পটি চালু রাখা গেলে, নতুন এই ভূমিগুলো ধীরে ধীরে দেশের আয়তনে যুক্ত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি এসব এলাকায় বসতি স্থাপন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগও তৈরি হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ম্যানগ্রোভ বনায়নের মাধ্যমে কার্বন ক্রেডিট অর্জনের সুযোগ থাকছে। কার্বন ক্রেডিটের সিস্টেম হচ্ছে আগে থেকে এসব যুক্ত দেশ বা জাতিসংঘকে জানিয়ে রাখতে হবে যে এই জায়গায় আমরা এই গাছ লাগাচ্ছি। কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিপরীতে জাতিসংঘ বা ওইসব দেশ থেকে অর্থ পাওয়া সম্ভব। বিশ্ব ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী আমরা দেখেছি যে, এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে প্রতিবছর প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পেতে পারি শুধুমাত্র গাছ লাগানোর মাধ্যমে কার্বন ক্রেডিট বিক্রি করে। এটি একদিকে পরিবেশের জন্য উপকারী—তাপমাত্রা কমবে, বৃষ্টিপাত বাড়বে, মাটির গুণগত মান উন্নত হবে—অন্যদিকে অর্থনৈতিক দিক থেকেও বড় সুযোগ তৈরি করবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কমিটি আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
টিবিএস: এই অঞ্চলে মানুষের বসবাস করা সম্ভব?
ড. সাইমুম পারভেজ: প্রথম পর্যায়ে বসবাস সম্ভব নয়। প্রথমে গাছ লাগিয়ে জমিকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। গাছ লাগানোর পর জমি মজুত হবে, চর তৈরি হবে। তখন মানুষ অটোমেটিক সেখানে বসবাস করা শুরু করবে। কিছু জায়গা শুধু বনাঞ্চল হিসেবে রাখব। সব জায়গায় মানুষের বসবাসের জন্য উন্মুক্ত করব না।
টিবিএস: প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমানের সঙ্গে আপনি অনেক কাজ করেছেন। সামনে বিএনপির কাউন্সিল। জাইমা রহমানকে আমরা কোথায় দেখতে পাব?
ড. সাইমুম পারভেজ: ব্যারিস্টার জাইমা রহমান দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে ছিলেন। দেশের বাইরে পড়াশোনা করেছেন এবং এক ধরনের যে ট্রেনিং পাওয়া সেটা তিনি পেয়েছেন। ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোজার তাঁর রয়েছে। দেশের বাইরে তিনি আইন পেশাতেও ছিলেন। বিভিন্ন ফার্মে কাজ করেছেন। যে কারণে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে দেশের রাজনীতিতে। আমার কাছে মনে হয় শুধু রাজনীতিতে না মানে সামাজিকভাবেও আমরা চাই যে এই ধরনের যোগ্য মানুষরা আরও সক্রিয় হন বিভিন্ন ক্ষেত্রে। ব্যারিস্টার জাইমা রহমান রাজনীতিতে আসবেন কি না বা তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন কি না, তিনি দায়িত্ব নিবেন কি না সেটা এই মুহূর্তে আসলে বলা সম্ভব না। আমরা দেখেছি যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও রাজনীতিতে এসেছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য হয়ে।
জিয়া ফ্যামিলির সদস্যরা খুবই ছোট জায়গা থেকে কাজ শুরু করে আস্তে আস্তে সক্রিয় হতে চান। ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের ক্ষেত্রে আমরা সেটা খেয়াল করেছি যে তিনি যখনই দেশে এসে বিভিন্ন সভা সেমিনারে বক্তৃতা দিয়েছেন—তরুণদের সাথে ইন্টার্যাক্ট করেছেন, তখন একটা কথা তিনি বারবার বলেন যে, 'আমি জানতে এসেছি। আমি শিখতে এসেছি। আমি শুনতে এসেছি।' এই জানা-শেখা এবং শোনার প্রক্রিয়া যখন শেষ হবে তখনই আসলে আমরা বুঝতে পারব যে তিনি সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হবেন কি না।
টিবিএস: জাইমা রহমানের ইচ্ছা কী?
ড. সাইমুম পারভেজ: এটা আমি বলতে পারব না। উনি বলতে পারবেন। আমি চাই উনি রাজনীতিতে আসুন। উনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বা বিএনপি চেয়ারম্যানের মেয়ে বলে আমি বলছি না। তাঁর সাথে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। আমি দেখেছি যে এই ধরনের তরুণ নেতৃত্বের দরকার রয়েছে। আমার কাছে মনে হয় ওনার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া উচিত। ভালো এবং গুরুত্বপূর্ণ রোলেই তাঁর অবদান রাখা উচিত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী হবে সেটা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
টিবিএস: ৫ আগস্টের পর প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের এক ধরনের বৈরিতা দেখা গেছে কিন্তু বর্তমান সরকার গঠন করার পর সেই সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। আপনার কাছে প্রশ্ন হচ্ছে যে এই সম্পর্কের মোড় কোন দিকে যেতে পারে?
ড. সাইমুম পারভেজ: বাংলাদেশের রাজনীতিতে 'ইন্ডিয়া কোয়েশ্চেন'-এর একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে—ভারতের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কী ধরনের হবে এবং কোন ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে তা পরিচালিত হবে। পারস্পরিক সম্মান ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি আমরা কতটা বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারব—এই প্রশ্নগুলোর সুস্পষ্ট উত্তর না পেলে প্রতিবেশী দেশের সাথে একটা টেনশনের মধ্যে আমরা সবসময় থাকব।
প্রথমত, আমাদের মেরুদণ্ড সোজা রেখে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করতে হবে। আমরা আকারে ছোট দেশ হতে পারি, আমাদের বাজেট বা সম্পদ সীমিত হতে পারে, কিন্তু আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র—এই অবস্থান থেকেই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
শেখ হাসিনার সময় আমরা দেখেছি, অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থের চেয়ে ভারতের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে বিভিন্ন চুক্তির ক্ষেত্রে। উদাহরণ হিসেবে বিভিন্ন জ্বালানি চুক্তি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেখানে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের তুলনায় ভারতের ব্যবসায়িক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে একটি কারণ ছিল—তৎকালীন সরকার আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে বৈদেশিক সমর্থনের প্রয়োজন অনুভব করত এবং ভারত সেই সমর্থন দিয়েছিল। তবে ভারতের পক্ষ থেকেও একটি কৌশলগত ভুল হয়েছে—তারা একই বাস্কেটে সবগুলো ডিম রেখেছে। বাংলাদেশে তো অনেকগুলো দল রয়েছে, অনেকগুলো বাস্কেট রয়েছে।
সুতরাং, ভবিষ্যতে সম্পর্কের মোড় নির্ভর করবে—দুই দেশ কতটা বাস্তববাদী, ভারসাম্যপূর্ণ এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে তার ওপর।
