বাহিনী নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের মন্তব্যকে অবমাননাকর বলছে পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন, উদ্বেগ প্রকাশ
রাজধানীর সড়কে সরকারি গাড়ি পার্কিং করাকে কেন্দ্র করে পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে এক স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের 'অবমাননাকর' মন্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।
আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) সংগঠনের সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক ডাবলু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৬ এপ্রিল রাজধানীতে ফুটপাত ও সড়কে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সময় রাস্তার ওপর পার্ক করা পুলিশের একটি গাড়ি দেখতে পান স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান। ওই সময় তিনি গাড়িটির চালক এক পুলিশ সদস্যের ওপর চড়াও হন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান ওই পুলিশ সদস্যের উদ্দেশে বলছেন, 'কিসের ড্রাইভার আপনি? কয় ফিট দূরে রাখছেন গাড়িটা। আপনার বিরুদ্ধে কমপ্লেন দিব কমিশনারের কাছে। আপনার বিরুদ্ধে মামলা হলে তো চাকরিই থাকবে না। ভালো হন, আপনাদের ওপর মানুষের আস্থা নেই।'
ম্যাজিস্ট্রেটের এই মন্তব্যে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান কর্তৃক প্রকাশিত কিছু মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে 'পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা নাই' এ ধরনের সামগ্রিক ও অবমাননাকর মন্তব্য শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট সদস্যকেই নয়, বরং সমগ্র পুলিশ বাহিনীর পেশাগত মর্যাদা, আত্মসম্মান ও মনোবলকে মারাত্মকভাবে আঘাত করেছে।'
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, টহল কার্যক্রম, অভিযান পরিচালনা ও তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে পুলিশকে অনেক সময় রাস্তায় গাড়ি রেখেই দায়িত্ব পালন করতে হয়। সেই বাস্তব প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে প্রকাশ্যে পুরো বাহিনী সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপ্রত্যাশিত।
একজন দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিত কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ সমীচীন নয় বলে মনে করে সংগঠনটি। বিবৃতিতে বলা হয়, এই বিষয়টি কেবল সাধারণ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেনি, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যেও তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন বিশ্বাস করে, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব। ভবিষ্যতে এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে আরও বেশি সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য বিবৃতিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
