ম্যাজিস্ট্রেটকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখানোর অভিযোগ অস্বীকার রুমিন ফারহানার, প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার 'মব' সৃষ্টির অভিযোগে বিচারিক কমিটিতে চিঠি প্রদান এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার শোকজ নোটিশের প্রেক্ষিতে প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। একইসঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে 'বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন' করার দাবিকেও তিনি নাকচ করে দিয়েছেন।
আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
গত ১৭ জানুয়ারির ঘটনার বর্ণনা দিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, 'আমি মাইক ব্যবহার করি না, হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করি। স্টেজ বলতে আমার জন্য একটা চেয়ার আর দুইপাশে দুইটা চেয়ার ছিল। আর সামনে সব প্লাস্টিকের চেয়ারে মানুষ বসা ছিল। এর মধ্যে যখন ম্যাজিস্ট্রেট আসেন, তিনি এসে পুলিশ নিয়ে প্রথমে উঠানের ভেতরে ঢুকেন। একপর্যায়ে স্টেজের উপরে উঠে আসেন। আমি বক্তব্য সংক্ষেপ করে নেমে যাই এবং আমি বিনয়ের সঙ্গে জিজ্ঞেস করি আমার কোন আচরণবিধিটা লঙ্ঘন হয়েছে। ওনি (ম্যাজিস্ট্রেট) আমাকে বলতে পারছিলেন না। একটা পর্যায়ে আমি উত্তেজিত হয়ে বলি— সবাই প্রচারণা করছে, আপনাদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।'
ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খানকে অসম্মান করার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'এই যে বৃদ্ধাঙ্গুলির কথা বললাম, এই কথাটা কোথায় থেকে আসল? কথাটা তো হঠাৎ আসেনি। 'রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে রুমিন ফারহানার দেয়া অভিযোগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান'— এটা ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজে বড় করে গেছে। এটা আমি ওনাকে দেখিয়েছি যে, অন্য প্রার্থীর কর্মীরা এভাবে আপনাদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়। আপনারা কিছু করতে পারেন না। এটাই আমি বলেছি। আমি কাউকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইনি।'
এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একের পর এক শাস্তিমূলক পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, '১৭ তারিখ আমাকে এ ঘটনার পরে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। এর আগেও আমাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। ৪০ হাজার টাকা ওইদিন জরিমানা করে তো আমার অপরাধের শাস্তি হলো। তারপরে দ্বিতীয় শাস্তি হলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চিঠি পাঠালেন নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে। এখানেই থামেনি। তিন নম্বর শাস্তি হিসেবে রিটার্নিং কর্মকর্তা আবার আমাকে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছেন। আমি এখনও সেই নোটিশ পাইনি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। এক অপরাধের জন্য আমাকে তিন জায়গায় শাস্তি দেওয়া হলো।'
প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ এনে রুমিন ফারহানা বলেন, 'বিএনপির জোটের প্রার্থী স্টেজ করে মাইক দিয়ে সমাবেশ করছে। গরু জবাই করে খাওয়াচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য রাখছেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আজকে (সোমবার) সকালে আমি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে গিয়েছিলাম। আমি বলেছি বিএনপি জোটের প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব কীভাবে জনসভা করছে আপনারা জানেন না? বিনীতভাবে প্রশ্ন করেছিলাম— আমি তো এখন পর্যন্ত ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছি, বিএনপি জোটের প্রার্থী কত টাকা জরিমানা দিয়েছেন? আমি দেড় ঘণ্টা ওনার (রিটার্নিং কর্মকর্তা) সামনে বসে থেকেও অংকটা জানতে পারলাম না, ওনারা জানেন না বিএনপির জোটের প্রার্থী জরিমানা দিয়েছেন কিনা।'
নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, প্রশাসন যদি ২০১৮ সালের মতো কাজ করে, তবে এই নির্বাচন কোনোভাবেই সুষ্ঠু হবে না। তিনি নির্বাচনি মাঠে সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
