ভুয়া ওয়ারেন্টে সাংবাদিককে আটক, ১৮ ঘণ্টা পর আদালত থেকে মুক্তি
কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি ভুয়া ওয়ারেন্টে স্থানীয় সাংবাদিককে আটক করে থানা পুলিশ। আটকের ১৮ ঘণ্টা পর আদালত থেকে ছাড়া পান তিনি। তবে বিষয়টি ভুলবশত হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন আদালত ও থানা পুলিশ।
গত সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে দেবিদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ভবতোষ কান্তি দের নেতৃত্বে একদল পুলিশ কুমিল্লার সিআর মামলা নম্বর-৫৭৩/২০২৫ এর একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় সাংবাদিক সোহরাব হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ওয়ারেন্টের বিষয়ে জানতে চাইলেও পুলিশ তার কথায় কর্ণপাত করেনি।
আটক সোহরাব হোসেন 'দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ' পত্রিকার দেবিদ্বার উপজেলা প্রতিনিধি।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় তাকে কুমিল্লার আদালতে প্রেরণ করা হয়। সেখানে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সায়মা শরীফ নিশাত সাংবাদিক সোহরাব হোসেনকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তখন আদালত থেকে জানানো হয়, যে ওয়ারেন্ট থানায় পাঠানো হয়েছিল তা সঠিক ছিল না।
সাংবাদিক সোহরাব হোসেন বলেন, 'দেবিদ্বার উপজেলার উটখারা মাজারের জমি অবৈধভাবে দখলকারীরা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে যাচ্ছে। তারপরও আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু মামলায় জামিন থাকার পরও সোমবার বিকেলে একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখিয়ে আমাকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।'
তিনি আরও বলেন, 'জামিনের বিষয়টি পুলিশকে জানালেও তারা আমার কোনো কথা না শুনে থানায় প্রায় ১৮ ঘণ্টা আটকে রেখে সকালে আদালতে প্রেরণ করে। আদালতে যাওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট আমার কাগজপত্র দেখে, কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না থাকায় আমাকে ছেড়ে দেন। ভুয়া ওয়ারেন্টের কারণে আমার সম্মানহানি হয়েছে। এ ঘটনায় আমি বিচার চেয়ে আদালতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করব।'
এসআই ভবতোষ কান্তি দে বলেন, 'আদালত থেকে ওয়ারেন্ট থাকায় আমরা সোহরাব হোসেনকে আটক করে আদালতে পাঠাই। কিন্তু আদালতের ওয়ারেন্টের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করার আমাদের সুযোগ নেই। পরে জানতে পেরেছি ওয়ারেন্টটি সঠিক ছিল না।'
কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪ নং আমলি আদালতের পেশকার মো. জসিম উদ্দিন বলেন, 'সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি (ওয়ারেন্ট) ভুলবশত থানায় চলে গেছে। তাকে আদালতে নিয়ে আসলে ছেড়ে দেওয়া হয়। এটা ভুলবশত হয়েছে।'
