তোফাজ্জল হত্যা: আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ শিক্ষার্থী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেন নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার মামলায় দুই শিক্ষার্থী জামিন পেয়েছেন। জামিনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. আবু রায়হান (২৩) ও রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ (২৪)।
আজ রোববার (৫ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তারা। শুনানি শেষে আদালত মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. হারুন অর রশিদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, 'আজ আসামিরা আদালতে এসে তাদের আইনজীবী মোহাম্মদ আলী বাবুর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আমরা এর বিরোধিতা করি। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পাঁচ হাজার টাকার মুচলেকায় আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। এই মামলায় রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ এজাহারনামীয় ৩ নম্বর এবং মো. আবু রায়হান ৯ নম্বর আসামি।'
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তোফাজ্জল হোসেনকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। মামলাটি তদন্ত করে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন শাহবাগ থানার পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান। প্রথম অভিযোগপত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
তবে মামলার তদন্ত সুষ্ঠু হয়নি উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশের দেওয়া ওই অভিযোগপত্রের ওপর নারাজি দাখিল করা হয়। গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে পিবিআই'র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম গত ১৫ ডিসেম্বর নতুন করে আরও সাতজনসহ মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টায় এক যুবক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের গেটে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র তাকে আটক করে প্রথমে ফজলুল হক মুসলিম হলের মূল ভবনের অতিথি কক্ষে নিয়ে যান। মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ তুলে তারা ওই যুবককে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় মারেন। জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক তার নাম তোফাজ্জল বলে জানান। তোফাজ্জল মানসিক ভারসাম্যহীন বুঝতে পেরে তাকে হলের ক্যান্টিনে নিয়ে খাবার খাওয়ানো হয়। এরপর পুনরায় তাকে হলের দক্ষিণ ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে জানালার সঙ্গে হাত বেঁধে স্ট্যাম্প, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে উচ্ছৃঙ্খল কিছু ছাত্র বেধড়ক মারধর করলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে এই ঘটনার কয়েক দিন পর, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ফজলুল হক মুসলিম হলের তৎকালীন প্রভোস্ট অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ মাসুমসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে নিহতের ফুফাতো বোন মোছা. আসমা আক্তার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আক্তারুজ্জামানের আদালতে একটি মামলার আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলার সঙ্গে এই আবেদনটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
