কেরানীগঞ্জে অগ্নিকাণ্ড: গার্ডের বাধা পেরিয়ে নাতনি বাঁচলেও নিখোঁজ দাদি
রাজধানীর কেরানীগঞ্জের একটি গ্যাস লাইটার তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই কারখানায় দাদির সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে ১১ বছরের নাতনি মিম আক্তার নিরাপত্তা রক্ষীকে ধাক্কা দিয়ে বের হতে পারলেও তার দাদি পারভীন আক্তার (৫১) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। মিমের মতো আরও অনেক শিশু ওই কারখানায় কাজ করত বলে জানা গেছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের আমবাগিচা এলাকায় ওই কারখানায় আগুন লাগে। মিম আক্তার জানায়, সে কারখানায় লাইটার ঠিকমতো জ্বলে কি না, তা পরীক্ষা করত এবং তার দাদি লাইটার গোছানোর কাজ করতেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মিম আক্তার টিবিএসকে বলে, "আগুন লাগার পর আমি বের হতে চাইলে দারোয়ান লাঠি দিয়ে পেটাতে আসে। তখন আমিসহ আরও কয়েকজন তাঁকে ধাক্কা দিয়ে বের হয়ে যাই। এরপর দৌড়ে বাসায় গিয়ে বাবাকে জানাই।" মিম তাঁর পরিবারের সঙ্গে কদমতলীর ওয়াশমিলের গলিতে থাকে। তাঁর বাবা জাহিদ একজন দিনমজুর, তাঁদের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়।
নিখোঁজ পারভীন আক্তারের ছেলে জাহিদ জানান, তার মা গত দেড় বছর ধরে এবং মেয়ে মিম গত ছয় মাস ধরে এই কারখানায় কাজ করছে। তিনি বলেন, "আজ সকালেও মা কাজে এসেছিলেন। আগুন লাগার পর মেয়ে বাসায় গিয়ে বলে—দাদিকে খুঁজে পাচ্ছি না। খবর শুনে দৌড়ে এসে দেখি দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে, চারদিক অন্ধকার। আগুন নেভার পর থেকে সব জায়গায় খুঁজছি, কিন্তু কোথাও মাকে পাচ্ছি না।"
ফায়ার সার্ভিস জানায়, শনিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে ওই লাইটার ফ্যাক্টরিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। ভেতরে প্রচুর দাহ্য পদার্থ থাকায় মুহূর্তেই আগুন ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট দ্রুত উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কাজ শুরু করে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিকেল ৪টা ৪৪ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা সম্ভব হয়।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানান, ইউনিটগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধ করা গেছে। তবে কারখানার ভেতর থেকে এ পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলো এমনভাবে পুড়ে গেছে যে নারী না পুরুষ, তা বোঝার উপায় নেই। নিহতদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। মরদেহগুলো বর্তমানে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
রাত সাড়ে ৯টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চলমান ছিল। ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, আগুনে কারখানাটির টিনশেড কাঠামো ভেঙে নিচে পড়ে গেছে। সেগুলো সরানোর পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কোনো মৃতদেহ আছে কি না, তা পুনরায় পরীক্ষা করে দেখা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কারখানাটিতে স্বাভাবিক সময়ে ৪০ থেকে ৪৫ জন শ্রমিক কাজ করলেও ঈদের ছুটির কারণে বর্তমানে ১৭ থেকে ১৮ জন কর্মরত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন আজই প্রথম কাজে যোগ দিয়েছিলেন। এখনো শিশুসহ বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্বজনরা দাবি করছেন।
