১৩৩ অধ্যাদেশ পর্যালোচনার পর ৯৮ অধ্যাদেশ বহালের সুপারিশ, পুনর্বিবেচনায় ২০টি
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে গণভোটসহ ২০টি অধ্যাদেশ চলতি অধিবেশনে অনুমোদন করছেনা সংসদীয় বিশেষ কমিটি। সাংবিধানিক সময়সীমার মধ্যে এগুলো সংসদে উত্থাপন না করার পক্ষে মত দিয়েছে কমিটি।
আজ বুধবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ১৩ সদস্যের এই বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য জয়নুল আবদীনের নেতৃত্বে তৈরি এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১৬টি এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে আরও যাচাই-বাছাই এবং শক্তিশালী করে পরবর্তীতে নতুন বিল উত্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাকি ৪টি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে রহিতকরণ ও হেফাজতের জন্য এখনই বিল আনয়নের সুপারিশ করা হয়।
তবে কমিটির এই সুপারিশের ওপর নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিয়েছেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান, মাওলানা রফিকুল্লাহ খান এবং গাজী নজরুল ইসলাম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশ অনুমোদিত না হলে এর কার্যকারিতা বিলোপ পায়।
কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ বহাল এবং ১৫টি অধ্যাদেশ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশোধিত আকারে সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ করেছে।
অনুমোদন না পেতে যাওয়া অধ্যাদেশগুলোর তালিকায় গণভোট অধ্যাদেশ ছাড়াও রয়েছে— জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক সংশোধন, কাস্টমস ও আয়কর সংশোধন, সিভিল এভিয়েশন, ট্রাভেল এজেন্সি নিয়ন্ত্রণ, মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন, মাইক্রো ফাইন্যান্স ব্যাংকিং, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) এবং তথ্য অধিকার (সংশোধন) সংক্রান্ত অধ্যাদেশ।
এ বিষয়ে বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, বিএনপি এখন গণভোটের চেয়ে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়নকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, "বিএনপির কাছে গণভোটের চেয়ে গণতন্ত্র এবং জুলাই সনদ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ হুবহু বাস্তবায়নে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
গণভোট প্রসঙ্গে ওই নেতা জানান, বিএনপি প্রথমে জাতীয় নির্বাচনের পর এটি করার প্রস্তাব দিয়েছিল। পরবর্তীতে নির্বাচনের দিনেই এটি করার বিষয়ে তারা একমত হয়েছিল যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত না হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে গণভোট আর দলের অগ্রাধিকার তালিকায় নেই।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ ২০২৫ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। সরকারি দলের সদস্যরা এটি ভিন্নভাবে আনার পক্ষে থাকলেও বিরোধী দলের সদস্যরা এটি অপরিবর্তিত রেখে পাসের পক্ষে মত দেন। আবার জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ পাসের বিষয়ে সরকারি দল একমত হলেও বিরোধী দল এটি সংশোধনীসহ পাসের দাবি জানিয়েছে।
