কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি সার ও বীজ পাবেন কৃষকরা: সংসদে কৃষিমন্ত্রী
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের সার-বীজ সরাসরি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, 'কৃষকরা জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকার সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের জন্য প্রণোদনা পাবেন।'
সংসদে কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, 'খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কৃষিকাজে সহায়তার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে কেবলমাত্র ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র শ্রেণির কৃষকদের কার্ডের মাধ্যমে এসব বিতরণ করা হবে।'
কৃষির সামগ্রিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার, কীটনাশকসহ বিভিন্ন উপকরণ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে মোট ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৪০১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সরকারের এই উদ্যোগের ফলে এখন পর্যন্ত ২৫ লাখ ২২ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। এছাড়া নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সরকার ইতোমধ্যে কৃষকপ্রতি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। এই ঋণ মওকুফ কার্যক্রমে সরকারের মোট ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা এবং এতে উপকৃত হচ্ছেন প্রায় ১২ লাখ কৃষক।
কৃষিখাতে ভর্তুকির তথ্য দিয়ে মন্ত্রী জানান, সরকার কৃষি উৎপাদনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার, সেচকাজে বিদ্যুৎ এবং ইক্ষুসহ বিভিন্ন খাতে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ১৬ হাজার ২৪০ লাখ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করা হয়েছে।
সার সরবরাহের পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৬ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৯ দশমিক ৫০ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি, ১০ দশমিক ৫০ লাখ মেট্রিক টন এমওপি এবং ১৬ দশমিক ৮৫ লাখ মেট্রিক টন ডিএপি সার ভর্তুকি মূল্যে কৃষক পর্যায়ে সফলভাবে সরবরাহ করা হয়েছে।
এ সময় কৃষিপণ্য সংরক্ষণে সরকারের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, কৃষকের উৎপাদিত শাক-সবজি ও ফলমূল সংরক্ষণের জন্য দেশে ১৮০টি মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া আলু সংরক্ষণের জন্য ৭০৩টি মডেল ঘর এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ৮০০টি মডেল ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
