দৌলতদিয়া ঘাটে যাত্রী নিয়ে বাস নদীতে: নিহত অন্তত ২, উদ্ধারকাজে ডুবুরি দল
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীসহ একটি বাস পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। অসুস্থ অবস্থায় গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসাধীন আছেন আরও একজন। নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিহত দুজন হলেন রেহেনা বেগম (৬০) ও মর্জিনা বেগম (৫৫)। রেহেনার বাড়ি রাজবাড়ীর ভবানীপুর এলাকায়। মর্জিনা বেগমের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। আর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন নুসরাত (২৯) নামের এক নারী। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে দুজনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। অন্যজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে প্রায় ৩০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায়।
স্থানীয় ও বাসটি থেকে উদ্ধার হওয়া কয়েকজন যাত্রী জানিয়েছেন, বাসটি তলিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে ৫ থেকে ৭ জন যাত্রী বাসটি থেকে বের হতে পেরেছেন।
খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। গোয়ালন্দ ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট এবং আরিচা ফায়ার স্টেশনের একটি ডুবুরি ইউনিট উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে আরো দুটি ডুবুরি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আহত অবস্থায় সাতজনকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ অনেকে।
দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা বলেন, '৪০ জনের মতো যাত্রী ছিলেন বাসটিতে। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।'
ফায়ার সার্ভিস কর্তৃক পানির নিচে বাস শনাক্ত করা গেছে। বিআইডব্লিউটিএ এর উদ্ধারকারী যান হামজার সহযোগিতায় বাসটি উত্তোলনের চেষ্টা চলছে।
