ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রাম বন্দরে ২৫ লাখ টন পণ্য ও ৫৫ হাজার কনটেইনার হ্যান্ডলিং
দেশজুড়ে ব্যাংক বন্ধ থাকলেও ঈদের ছুটিতে প্রায় স্বাভাবিক ছিল চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম। সাত দিনের ছুটিতে বন্দরে ২৫ লাখ টনের বেশি পণ্য (কার্গো) এবং প্রায় ৫৫ হাজার টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মোট ২৫ লাখ ৮ হাজার ৬১৪ টন পণ্য প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে বন্দরে। এর মধ্যে আমদানি পণ্য ছিল ২৩ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৬ টন এবং রপ্তানি ছিল ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮২৮ টন।
এ সময়ে কনটেইনার হ্যান্ডলিংও ছিল জোরদার। মোট ৫৪ হাজার ৮৯৮ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডেলিং হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি কনটেইনার ছিল ২৮ হাজার ৯৬১ টিইইউ এবং রপ্তানি কনটেইনার ছিল ২৫ হাজার ৯৩৭ টিইইউ।
দীর্ঘ ছুটির মধ্যেও জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। সাত দিনে বন্দরে ৬৪টি জাহাজ ভিড়েছে—যা দৈনিক গড়ে ৯টির বেশি।
১৮ মার্চ বন্দরের কার্যক্রম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এদিন ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৪ টন পণ্য হ্যান্ডলিং করা হয়—যা ছিল ওই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই দিনে সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৮৬১ টিইইউ কনটেইনারও পরিচালনা করা হয়।
তবে ঈদের দিন (২১ মার্চ) বন্দরের কার্যক্রমে কিছুটা ভাটা পড়ে। এদিন পণ্য হ্যান্ডলিং কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ৫৫ হাজার ৮৭৪ টনে এবং কনটেইনার চলাচল নেমে আসে ৯৬২ টিইইউতে। একই সঙ্গে এদিন মাত্র তিনটি জাহাজ ভিড়ে—যা ওই সপ্তাহে সর্বনিম্ন।
বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ও মুখপাত্র রেফায়েত হামিম বলেন, ঈদের দিন ছাড়া বাকি সময় বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। ছুটির মধ্যেও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
তবে তিনি জানান, পরিবহন শ্রমিকদের ছুটির কারণে ডেলিভারি কার্যক্রম তুলনামূলক ধীর ছিল। সরকার ও বেসরকারি অফিস খুললে ডেলিভারি স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সাধারণত বড় ছুটির সময়েও গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম চালু রাখে, যাতে পণ্যজট এড়ানো যায় এবং প্রয়োজনীয় আমদানি পণ্য ও শিল্পের কাঁচামালের সরবরাহ সময়মতো নিশ্চিত করা যায়।
