চট্টগ্রামে জ্বালানি তেল সংকট, পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি
চট্টগ্রামে অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নগরীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি এবং চালকদের চরম ভোগান্তি এখন নিত্য চিত্র। অধিকাংশ পাম্পে 'অকটেন নেই' লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে, আবার কোথাও সীমিত পরিমাণে জ্বালানি সরবরাহ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কায় অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। এতে বাজারে কৃত্রিম চাহিদা বেড়ে সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। ডিপো থেকে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া এবং চাহিদা নিয়ন্ত্রণে না এলে এ সংকট আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক ও স্বল্প আয়ের পেশাজীবীরা।
নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পে 'অকটেন নেই' ঘোষণা ঝুলছে। যেসব স্থানে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে মোটরসাইকেল ও রাইড-শেয়ার চালকদের অপেক্ষমাণ লাইন ক্রমেই দীর্ঘতর হচ্ছে।
সিএমপি পুলিশ লাইন্স ফিলিং স্টেশনে ডিজেল সরবরাহ থাকলেও অকটেন না থাকায় বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ (২৪ মার্চ) বিকেল ৪টার পর সীমিত পরিমাণে অকটেন সরবরাহ শুরু হতে পারে। সরবরাহ কম থাকায় নির্ধারিত সীমার বাইরে জ্বালানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলেও তারা জানান।
ভোগান্তির বিবরণ দিতে গিয়ে গণি বেকারী এলাকার একটি পাম্পে অপেক্ষমাণ আবছার হোসেন বলেন, 'গত সন্ধ্যা থেকে ঘুরছি, কোথাও অকটেন পাইনি। এক জায়গায় সামান্য তেল পেয়েছি, তার বেশি কোথাও দেয়নি।'
রাইড-শেয়ার চালক আব্দুর রহমান টিবিএসকে বলেন, 'ঈদের সময় আয় বাড়ার কথা থাকলেও জ্বালানির অভাবে গাড়ি চালাতে পারছি না। আধা ঘণ্টার বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে।'
পাম্প মালিকদের দাবি, ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় তারা রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি করছেন। নির্দিষ্ট পরিমাণের বাইরে কাউকে জ্বালানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
কিউসি ট্রেডিং লিমিটেডের ম্যানেজার মীর খান বলেন, 'যতটুকু তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেটুকুই বিক্রি করা হচ্ছে। সরবরাহ কম থাকায় পাম্প পুরোপুরি চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।'
প্রবর্তক মোড়, কাতালগঞ্জ, ষোলশহর, লালখান বাজার ও সিআরবি মোড়সহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। অনেক জায়গায় তেল বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ থাকলেও কোথাও সীমিত সরবরাহের কারণে উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্ট ও পাম্প মালিক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, সরবরাহ ব্যবস্থার সমন্বয়হীনতা এবং পে-অর্ডার জটিলতার কারণে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ব্যাহত হচ্ছে।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মঈন উদ্দিন টিবিএসকে বলেন, 'পাম্পে সম্পূর্ণভাবে তেল বন্ধ নেই, তবে সরবরাহ কম থাকায় অকটেনের সংকট বেশি দেখা দিচ্ছে।' তিনি আরও জানান, ঈদের ছুটিতে ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেক ডিলার সময়মতো পে-অর্ডার করতে পারেননি, যার ফলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলনও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
সমিতির সভাপতি আবু তৈয়ব পাটোয়ারি জানান, বর্তমান রেশনিং ব্যবস্থা ও সরবরাহ সংকট মিলিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।
