ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পর্যটক বরণে প্রস্তুত চট্টগ্রামের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পর্যটকদের বাড়তি চাপ সামলাতে এবং সপরিবারে বিনোদন নিশ্চিত করতে বর্ণিল প্রস্তুতি নিচ্ছে চট্টগ্রামের প্রধান বিনোদন কেন্দ্রগুলো। নগরীর ফয়েজ লেক, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, সি ওয়ার্ল্ড ওয়াটার পার্ক, বেসক্যাম্প অ্যাডভেঞ্চার পার্ক, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, ফৌজদারহাট ডিসি পার্ক এবং ওয়ান্ডারল্যান্ড শিশু পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিবার ও শিশুদের কথা মাথায় রেখে এবার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা বর্তমানে বেঙ্গল টাইগার, সাদা বাঘ, সিংহ, কুমির, ক্যাঙ্গারু, জেব্রা এবং জলহস্তীসহ প্রায় ৫২০টি প্রাণীর আবাসস্থল। চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর শাহাদাত হোসেন শুভ জানান, ঈদুল ফিতরের ছুটিতে প্রায় ৭০ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হতে পারে বলে তারা আশা করছেন। বর্তমানে প্রবেশ টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে জনপ্রতি ৭০ টাকা। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, চিড়িয়াখানার সীমানা সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে, যা ভবিষ্যতে দর্শনার্থীদের ধারণক্ষমতা আরও বাড়াতে সাহায্য করবে।
ফয়েজ লেক সংলগ্ন বিনোদন পার্কে দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে টর্নেডো ৩৬০, এয়ারবোর্ন শট, ফ্লাইং বাস, স্কাই হপার, বাম্পার কার, ফ্যামিলি রোলার কোস্টার, পাইরেট শিপ এবং ফেরিস হুইলের মতো রোমাঞ্চকর সব রাইড। শিশুদের জন্য থাকছে হ্যাপি জাম্প, পনি অ্যাডভেঞ্চার ও সার্কাস ট্রেন। এছাড়া লেকে ইঞ্জিন বোট ও প্যাডেল বোটের মাধ্যমে নৌ-ভ্রমণের সুবিধাও থাকবে।
চট্টগ্রামের সব পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থীর ভিড় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ট্যুরিস্ট পুলিশ ইন্সপেক্টর মো. হাসান ইমাম বলেন, "দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পুলিশ, র্যাব এবং গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের মোতায়েন রাখা হবে। সৈকত এলাকায় হেল্প ডেস্ক ও মোবাইল টিমও সক্রিয় থাকবে।"
সি ওয়ার্ল্ড ওয়াটার পার্কে ওয়েভ পুল, মাল্টি-স্লাইড, ডোম স্লাইড এবং শিশুদের জন্য বিশেষ জোন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, বেসক্যাম্প অ্যাডভেঞ্চার পার্কে থাকছে আর্চারি, ক্লাইম্বিং ওয়াল এবং ট্রাইটপ চ্যালেঞ্জের মতো রোমাঞ্চকর আয়োজন।
ফৌজদারহাট ডিসি পার্ক এবং কর্ণফুলী রিভারভিউ এলাকাতেও ছুটির দিনে প্রচুর দর্শনার্থী সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পর্যটকদের অভিজ্ঞতা আনন্দদায়ক করতে ডিসি পার্কে শিশুদের খেলার জায়গা সম্প্রসারণ এবং লেকের ওপর জিপ লাইন যুক্ত করাসহ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নগর কর্তৃপক্ষ ও পার্ক পরিচালনাকারীরা জানিয়েছেন, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তারা এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন।
