চলতি বছরই শেষ হবে মেগা প্রকল্প, চট্টগ্রামে থাকবে না স্থায়ী জলাবদ্ধতা: আমির খসরু
চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ চলতি বছরের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। এরপর বন্দরনগরীতে আর কোনো স্থায়ী জলাবদ্ধতা থাকবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ শনিবার (১৬ মে) বেলা তিনটায় নগরীর শুলকবহর এলাকায় মির্জা খালের ওপর সেতুর নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন চলমান প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই ঘোষণা দেন।
পরিদর্শনকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, 'জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিমধ্যে সিটি করপোরেশন ও সিডিএ অনেকগুলো কাজ করেছে, যার সুফল সামনে পাওয়া যাবে। বর্তমানে প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে এবং যেখানে যা সমস্যা আছে তা চিহ্নিত করা হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় সরকারি জায়গার ওপর নির্মিত বাড়িঘর রয়েছে, তা সরাতে হচ্ছে, সেখানে প্রতিরোধ দেয়াল দেওয়া হচ্ছে এবং খালের গভীরতা ও প্রশস্ততা বাড়ানো হচ্ছে।'
প্রকল্পের কারিগরি ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, চট্টগ্রামের ছোট-বড় ১৩০টি খালের সবগুলোকে এখন প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। কতটুকু বৃষ্টি হলে কী পরিমাণ পানি প্রবাহিত হবে এবং সাগরের আউটলেট দিয়ে কীভাবে পানি নিষ্কাশিত হবে, তার সব হিসাব-নিকাশ করে কাজগুলো করা হচ্ছে। এখানে জোয়ার-ভাটার বিষয় আছে, জলকপাট বা স্লুইসগেট পরিচালনার ব্যবস্থাপনার বিষয় আছে। সবগুলো কাজই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে করা হচ্ছে।
মেগা প্রকল্প নিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, 'জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অর্থায়নের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অতীতে প্রকল্প করা হলেও যথাযথভাবে অর্থায়ন করা হয়নি। এখন আমরা চেষ্টা করছি যা অর্থ প্রয়োজন, তা দেওয়ার জন্য। যদিও বর্তমানে যুদ্ধের কারণে বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের বিল পরিশোধ করতে গিয়ে সরকারি তহবিলের অবস্থা কিছুটা কঠিন অবস্থায় রয়েছে। বিগত সরকারগুলোর রেখে যাওয়া দায়ও মেটাতে হচ্ছে। তা সত্ত্বেও চট্টগ্রামের এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। কারণ চট্টগ্রামবাসীর কষ্ট দূর করাকেই এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।'
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, 'এসব প্রকল্পে যদি কোনো লুটপাট হয়ে থাকে, তবে তার তদন্ত করা হবে। এর সঙ্গে কারা জড়িত তাদেরও খুঁজে বের করা হবে। প্রকল্পের কাজে সমন্বয়ের প্রয়োজন আছে। এখন সমন্বয়ের মাধ্যমে সবাই কাজ করছে। আর প্রকল্পটি সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য চট্টগ্রামের মেয়রের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।'
এদিন পরিদর্শনের সময় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, সিডিএ চেয়ারম্যান মো. নুরুল করিম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
