চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার: কারাবন্দী মায়েদের সঙ্গে ৪৫ শিশুর ঈদ
ঈদের আনন্দ যেখানে ঘিরে থাকে পরিবার, নতুন পোশাক আর উচ্ছ্বাসে ভরা মুহূর্ত, সেখানেই চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের চার দেয়ালের ভেতরে ভিন্ন এক বাস্তবতায় ঈদ কাটাতে হচ্ছে ৪৫ জন শিশুকে। কোনো অপরাধে জড়িত না থাকলেও, শুধু বন্দী মায়েদের সঙ্গে থাকার কারণেই তাদের শৈশব আটকে আছে কারাগারের গণ্ডির ভেতর।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব শিশুর বয়স সর্বোচ্চ ছয় বছর। নিয়ম অনুযায়ী, বন্দী মায়ের সঙ্গে এই বয়স পর্যন্ত শিশুদের কারাগারে থাকার সুযোগ রয়েছে। ফলে বাইরের পৃথিবীর উৎসব-আনন্দ থেকে দূরে থেকেই তাদের বেড়ে ওঠা, আর সেই বাস্তবতার মধ্যেই কাটছে তাদের ঈদ।
শিশুদের ঈদ আনন্দ কিছুটা হলেও বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে কারাগার কর্তৃপক্ষ। যেসব পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য নেই, তাদের শিশুদের জন্য নতুন পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ঈদের আগের দিন এসব কাপড় তাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন টিবিএসকে বলেন, যেসব পরিবারের সামর্থ্য নেই এমন শিশুদের নতুন জামা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা ঈদের আগের দিন এইসব কাপড় তাদের বিতরণ করব।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদ উপলক্ষে বন্দীদের জন্য বিশেষ রান্নার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঈদের দিন সকালে বন্দীদের দেওয়া হবে পায়েস ও মুড়ি। দুপুরে মুসলিম বন্দীদের জন্য থাকবে পোলাও গরুর মাংস, আর অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য ছাগলের মাংসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এছাড়া, সবার জন্য থাকবে মুরগির মাংস ও মিষ্টি। রাতে পরিবেশন করা হবে পোলাও, আলুর দম এবং ভাজা মাছ এবং পান-সুপারি।
কারাগারের ভেতরেই অনুষ্ঠিত হবে ঈদের জামাত। সকাল সাড়ে সাতটায় কারাগারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঈদের নামাজ আদায় করবেন। এরপর সকাল আটটা থেকে বন্দীদের জন্য পৃথকভাবে তিনটা ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন টিবিএসকে বলেন, 'বিধি অনুযায়ী ঈদে বন্দীদের মন ভালো রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে কারা কর্তৃপক্ষ।
ঈদ উপলক্ষে কারাগারের ভেতরে বিশেষ খাবারের আয়োজনের পাশাপাশি ধর্মীয় পরিবেশে নামাজের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।' কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী বন্দীরা সারা বছর ঘরের রান্না করা খাবার খেতে পারেন না। তবে ঈদের পরদিন স্বজনরা চাইলে বাড়িতে রান্না করা খাবার বন্দীদের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন।
কারাগারের রান্না তৈরির কাজও করেন বন্দীরাই। দুটি রান্নাঘরের ২৮টি চুলায় বন্দী কয়েদিরাই ঈদের বিশেষ খাবার প্রস্তুত করবেন। এছাড়া প্রত্যেক বন্দী ৫ মিনিট করে পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ পাবেন। ঈদের ৩ দিনের মধ্যে প্রত্যেকে ১৫ মিনিট করে পরিবারের সাথে দেখা করার সুযোগ পাবেন।
