তোফাজ্জল হত্যা মামলা: আত্মসমর্পণের আবেদন জমা দিয়ে পালালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাশেদ কামাল অনিক আদালতে আত্মসমর্পণের আবেদন জমা দিয়েও শুনানির আগেই পালিয়ে গেছেন।
রোববার (১৫ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে এই ঘটনা ঘটে। রাশেদ কামাল অনিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী।
আদালত সূত্র জানায়, অনিকের পক্ষে তার আইনজীবী জামাল উদ্দিন এদিন আত্মসমর্পণপূর্বক জামিনের আবেদন জমা দেন। কিন্তু মামলার শুনানির সময় আদালত থেকে ডাক দেওয়া হলে আইনজীবী কিংবা আসামি—কাউকেই আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক জিন্নাত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে জানতে আইনজীবী জামাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এর আগে, পিবিআইর দেওয়া ২৮ আসামির অভিযোগপত্র আদালত আমলে গ্রহণ করেছেন। আসামিদের মধ্যে ২২ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। রাশেদ কামাল অনিক এই ২২ জন পলাতক আসামির একজন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন— ঢাবি ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক জালাল মিয়া, আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, আল হোসাইন সাজ্জাদ, মো. মোত্তাকিন সাকিন শাহ, সুমন মিয়া, ওয়াজিবুল আলম, ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী, ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি, আব্দুল্লাহিল কাফী, শেখ রমজান আলী রকি, মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ এবং আশরাফ আলী মুন্সী।
আসামিদের মধ্যে আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ ও ওয়াজিবুল আলম বর্তমানে জামিনে আছেন। এছাড়া জালাল মিয়া, আল হোসেন সাজ্জাদ, মো. মোত্তাকিন সাকিন শাহ ও সুমন মিয়া কারাগারে রয়েছেন। বাকি ২২ আসামি এখনো পলাতক।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জল হোসেনকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন শাহবাগ থানায় মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। প্রথমে পুলিশ ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নারাজি দেয়। এরপর আদালতের নির্দেশে পিবিআই মামলাটি পুনরায় তদন্ত করে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ২৮ জনের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
