ঢাকায় ভোজ্যতেলের সংকট, দাম বাড়ার আশঙ্কায় বাড়তি কিনছেন ক্রেতারা
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধকে ঘিরে দাম বাড়তে পারে—এই আশঙ্কায় চাহিদার চেয়ে বেশি তেল কিনতে শুরু করেছেন ভোক্তারা। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট দেখা দিয়েছে।
কিছু বাজার ও মুদি দোকানে এক ও দুই লিটারের বোতল পাওয়া গেলেও অধিকাংশ জায়গায় পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল মিলছে না।
খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গত এক সপ্তাহ ধরে কোম্পানিগুলো থেকে পাঁচ লিটারের তেলের বোতলের সরবরাহ কমানো হয়েছে। এ কারণে বাজারে এই বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। তবে কোম্পানিগুলো এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তাদের পক্ষ থেকে নিয়মিত সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। ডিলার পর্যায়ে মজুদের কারণে বাজারে সংকট তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
গতকাল রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীর মেরাদিয়া বাজার ও আশপাশের দোকানগুলোতে পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের কোনো বোতল পাওয়া যায়নি। এমনকি সেখানে স্বপ্ন আউটলেটেও সয়াবিন তেল পাওয়া যায়নি।
সয়াবিন তেল নেই কেন—এমন প্রশ্নে স্বপ্নের এক বিক্রেতা বলেন, "সকাল থেকে আসা সব ক্রেতাই একটি করে বোতল নিয়ে গেছেন। ফলে এখন কোনো তেল নেই।"
দক্ষিণ বনশ্রীর আগোরায় গিয়েও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের কোনো বোতল নেই। কেবল ফ্রেশ ব্র্যান্ডের দুই লিটারের কয়েকটি বোতল রয়েছে। বেশি সংখ্যক ক্রেতা যাতে তেল কিনতে পারেন, সে জন্য একজন ক্রেতাকে এক বোতলের বেশি তেল নিতে দিচ্ছেন না আগোরার কর্মীরা।
রাজধানীর বাড্ডা ও শাহজাদপুর এলাকার কয়েকটি মুদি দোকান ঘুরেও সয়াবিন তেল পাওয়া যায়নি। বড় দু-একটি দোকানে দুই লিটারের তিন থেকে চারটি বোতল পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে কোম্পানিগুলো থেকে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না।
শাহজাদপুরের ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম টিবিএসকে বলেন, "কোম্পানিগুলো পাঁচ লিটারের বোতল দেয় না। দুই লিটারের বোতলও মাঝে মধ্যে দেয়। কোম্পানি থেকে জানিয়েছে, তাদের কাছে নাকি তেলের সরবরাহ নেই।"
আরেক বিক্রেতা ইলিয়াস হোসেন বলেন, "আমাদের দোকানে দুই সপ্তাহ ধরে তেল দিচ্ছে না। তাদের কাছে নাকি তেল নেই। বড় দোকানগুলোতে মাঝে মধ্যে দিলেও আমরা পাই না।"
ফ্রেশ ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক তাসলিম শাহরিয়ার দাবি করেছেন, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে তারা বিপুল পরিমাণ তেল সরবরাহ করেছেন।
তিনি বলেন, "রমজানে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমরা অতিরিক্ত তেল আমদানি করেছি। মাসে ৫০ হাজার টনের বেশি তেল সরবরাহ হচ্ছে। কোনো সংকট হওয়ার কথা নয়।"
বাজারে দুই ও পাঁচ লিটারের বোতলের ঘাটতির বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। ডিলার পর্যায়ে কোনো সংকট তৈরি হলে সে বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
একই কথা জানিয়েছেন সিটি গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর বিশ্বজিৎ সাহা।
তিনি বলেন, সিটি গ্রুপ সরবরাহ কমায়নি। এলসি–সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কিছু ছোট কোম্পানি তেল আমদানি করতে পারছে না। তবে রমজানে বাড়তি চাহিদা এবং কিছু মানুষের মজুদের কারণেও এই সংকট তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
