১০ দিন পেরিয়েও জমেনি বইমেলা: দর্শনার্থী কম, বিক্রিতে হতাশ প্রকাশকরা
অমর একুশে বইমেলার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো জমেনি বইপ্রেমীদের এই মিলনমেলা। অন্য বছরের তুলনায় এবার দর্শনার্থীর উপস্থিতি যেমন কম, তেমনি আশঙ্কাজনক হারে কমেছে বই বিক্রি। এমনকি গত বছরের তুলনায় এবার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণও কমেছে। সব মিলিয়ে বই, পাঠক ও প্রকাশনা অর্থনীতির এই বড় আয়োজন এবার অনেকটা ধীরগতিতে চলছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে মেলা শুরু হওয়ায় চিরাচরিত সেই আবহে পরিবর্তন এসেছে। শুরুর দিকে অনেক স্টল পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না। এছাড়া রমজান মাস চলায় মানুষের মনোযোগ এখন ঈদের কেনাকাটার দিকে বেশি, যার প্রভাব পড়েছে বইমেলায়।
মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, অনেক স্টলে বিক্রেতারা ক্রেতার অপেক্ষায় অলস সময় পার করছেন। মেলায় অংশ নেওয়া প্রকাশকরা জানিয়েছেন, বিক্রির চিত্র এবার খুবই হতাশাজনক।
বিদ্যাপ্রকাশ প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী সামিউল ইসলাম বলেন, 'এ বছর বেচাকেনার অবস্থা খুবই খারাপ। আগের বছরগুলোতে যেখানে প্রতিদিন ২৫-৩০ হাজার টাকার বই বিক্রি হতো, এবারে সেটা ৭-৮ হাজারে নেমে এসেছে।'
একই সুরে হতাশা প্রকাশ করেন অন্যপ্রকাশ প্রকাশনীর পরিচালক সিরাজুল কবীর চৌধুরী। তিনি বলেন, 'ব্যবসায়িক অবস্থা এবার শোচনীয়। ছুটির দিনগুলোতেও ক্রেতা নেই। আগে একদিনে যা আয় হতো, এবার তা ১০ দিনে হয়েছে।'
ইউপিএল পাবলিকেশন্সের পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন প্রকাশনা খাতের নাজুক অবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, 'আমাদের সরকার, পাঠক ও লেখকরা এই পাবলিশিং ইকোনমিটা (প্রকাশনা অর্থনীতি) যতদিন না বুঝতে পারবেন, ততদিন আমাদের দুর্দশা কাটবে না। প্রকাশনা খাতের প্রতি সরকারের মনোযোগ যে কত কম, সেটা এবার দেখা গেছে। একটা বিপর্যয় না এলে কোনো খাত কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তা হয়তো আমরা বুঝতে পারতাম না। তবে আমি উজ্জ্বল দিকটা দেখার পক্ষে; বর্তমান চিত্র থেকে যদি সরকারের মনোযোগ আসে, তবে আমাদের উন্নতি হতে পারে।'
বাংলা একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, এবার মেলায় অংশ নেওয়া প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এ বছর মোট ৫৪৯টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে, যা গত বছর ছিল ৭১৮টি। মেলায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান স্টল বরাদ্দ পেয়েছে। পাশাপাশি লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে ৮৭টি স্টল রয়েছে।
এক সময় তরুণ লেখক-পাঠকদের ভিড়ে সরগরম থাকা লিটল ম্যাগাজিন চত্বরেও এবার নীরবতা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার তরুণদের উপস্থিতি অনেক কম। তবে মেলা এখনো ২০ দিন বাকি থাকায় প্রকাশকদের আশা—মেলার মাঝামাঝি সময় থেকে পাঠকের ভিড় বাড়বে এবং নতুন বই প্রকাশের মাধ্যমে মেলা আবার প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।
