একুশে বইমেলার প্রস্তুতি চলছে, বর্জনের হুমকি প্রকাশকদের একাংশের
প্রকাশকদের একটি বড় অংশের বর্জনের হুমকি সত্ত্বেও আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি একুশে বইমেলা উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছে। বার্ষিক এ আয়োজনকে ঘিরে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পুরোদমে কাজ এগোচ্ছে।
এবারের বইমেলার সময়সূচি ও আয়োজন নিয়ে প্রকাশকদের মধ্যে মতভেদের পাশাপাশি রমজানের সঙ্গে মেলা আয়োজনের সময় মিলে যাওয়ায় সম্ভাব্য বিক্রি ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
চলছে প্রস্তুতি
হাতে আর মাত্র তিন দিন। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। বরাবরের মতো আয়োজনের দায়িত্বে থাকা বাংলা একাডেমি স্টল বরাদ্দ, অবকাঠামো নির্মাণ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। সময়সূচি নিয়ে আলোচনা থাকলেও প্রস্তুতি থেমে নেই।
সরেজমিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে দেখা গেছে, স্টল কাঠামো নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন ও পথনির্দেশনা তৈরির কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, শেষ পর্যন্ত এখানেই পাঠক–প্রকাশকের মিলনমেলা বসবে।
প্রকাশকদের জন্য এটি বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। নতুন বই প্রকাশের পরিকল্পনা, স্টল সাজানো, মুদ্রণ ও বিক্রয়কর্মী নিয়োগের কাজ চলছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। কেউ প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছেন, আবার কেউ পরিস্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। প্রকাশকদের মতে, বইমেলা যেমন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ, তেমনি প্রকাশনা খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ক্ষেত্র।
বিভক্ত প্রকাশকরা
সময় নির্বাচন নিয়ে প্রকাশকদের মধ্যে মতভেদ দেখা দেওয়ায় প্রায় তিন শতাধিক প্রকাশক লিখিতভাবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমিকে জানিয়েছেন, নির্বাচনী ব্যস্ততায় ছাপাখানার সময় না পাওয়া, প্রস্তুতির ঘাটতি এবং রমজানে সম্ভাব্য বিক্রি কমার আশঙ্কায় তারা অংশ নিতে পারছেন না।
অন্যদিকে মেলায় অংশ নিতে প্রস্তুত আবিষ্কার প্রকাশনীর প্রকাশক দেলোয়ার হাসান বলেন, 'প্রায় ৩৫০টি প্রতিষ্ঠান স্টল বরাদ্দের জন্য অর্থ জমা দিয়েছে। ২২ তারিখ পর্যন্ত জমা নেওয়া হবে বলে জানি। বাংলা একাডেমি তাদের কাজ এগিয়ে নিয়েছে। প্রায় ২৫০ প্রকাশনী স্টল বরাদ্দ পেয়েছে এবং ১৭ তারিখে লটারির মাধ্যমে আরও কিছু প্রতিষ্ঠান স্টল পাবে। বইয়ের সংখ্যা কম হতে পারে, তবে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।'
এদিকে, অংশগ্রহণে অনাগ্রহী প্রকাশকদের একটি অংশ বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও সময় নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গ্রন্থিকের প্রকাশক আব্দুর রাজ্জাক রুবেল বলেন, 'রমজানে সাধারণত পাঠক উপস্থিতি কম থাকে। মানুষ অফিস শেষে বাসায় ফেরে, তারাবীহ ও ঈদের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত থাকে। স্বাভাবিক সময়েও বিক্রি কমেছে। তাই এই সময়ে মেলা হলে বিক্রি বাড়বে—এমন প্রত্যাশা নিয়ে সংশয় আছে।'
একই প্রসঙ্গে সংবেদ প্রকাশনীর প্রকাশক পারভেজ হোসেন বলেন, 'রমজানের মধ্যে মেলা হলে প্রকাশকদের আর্থিক ঝুঁকি বাড়তে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির কারণে পাঠক উপস্থিতিও কম হতে পারে।'
আয়োজকদের প্রতিক্রিয়া
মতভেদ ও মেলা আয়োজন প্রসঙ্গে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'আয়োজক হিসেবে একাডেমির কোনো পক্ষপাত নেই। প্রকাশকদের মতামত নিয়েই সময় নির্ধারণ করেছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।'
তিনি বলেন, বড় প্রকাশকরা অংশ না নিলে মেলার মান ক্ষুণ্ণ হবে। তবে এখনো অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রস্তুতি এগোলেও প্রকাশকদের বিভক্ত অবস্থান এবারের বইমেলায় কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।
