গুজব ও আতঙ্কে খুলনার ডিপোতে জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়েছে ৫ গুণ
গুজব ও আতঙ্কের কারণে খুলনার জ্বালানি তেল ডিপোগুলোতে হঠাৎ করে চাহিদা প্রায় পাঁচ গুণ বেড়ে গেছে। নগরীর দৌলতপুর এলাকায় অবস্থিত পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির ডিপোগুলোতে ট্যাংকলরির ভিড় বাড়ার পাশাপাশি পাম্পগুলোতেও স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি তেল বিক্রি হচ্ছে। এর ফলে পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন পরিবহন চালকরা।
ডিপো সূত্র জানায়, সাধারণ সময়ে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল উত্তোলন হতো, বর্তমানে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি তেল নিতে আসছেন পাম্প মালিকরা। তবে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই; কেবল গুজবের কারণেই এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
নগরীর ফুলবাড়ীগেট এলাকার মেসার্স নগর পেট্রোলিয়াম সার্ভিস স্টেশনের ম্যানেজার মো. মাহফুজ বিশ্বাস বলেন, "প্রতিদিন আমাদের স্টেশন থেকে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন মিলিয়ে সাড়ে পাঁচ হাজার লিটারের বেশি তেল বিক্রি হয় না। কিন্তু গুজবের কারণে এখন ২৫ থেকে ৩০ হাজার লিটার বিক্রি হচ্ছে। অনেকে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত তেল নিতে আসছে, কেউ কেউ পাত্রও নিয়ে আসছে।"
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নির্দেশনা মেনে তারা কোনো পাত্রে তেল বিক্রি করছেন না এবং নির্ধারিত সীমার বেশি তেলও দিচ্ছেন না। পাম্পে ইতিমধ্যে নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে যে প্লাস্টিক বা কাঁচের বোতল, কন্টেইনার, জার বা ক্যানে তেল বিক্রি ও সরবরাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দামের বিষয়ে তিনি বলেন, আগের দাম অনুযায়ীই পেট্রোল লিটারপ্রতি ১১৬ টাকা, ডিজেল ১০০ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজার হাবিবুর রহমান বলেন, "তেলের চাহিদা প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। আগে যে পাম্প সপ্তাহে ২০ লাখ টাকার তেল নিত, তারা এখন কোটি টাকার তেল নিচ্ছে। যার সপ্তাহে ২০ লিটার তেল প্রয়োজন ছিল, তিনি এখন ১০০ লিটার নিয়ে রাখছেন। তবে আমাদের ডিপোগুলোতে পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে।"
তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় তেলের দাম বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় পাম্প মালিকরা আগাম মজুত করতে চাইছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাম্পগুলোর পূর্বের চাহিদার সঙ্গে ভারসাম্য রেখে তেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু জেলায় সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে এবং মোটরসাইকেলে নির্দিষ্ট টাকার বেশি তেল না দেওয়ার নিয়ম চালু হয়েছে।
এদিকে পাম্পে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ চালকরা। খুলনা-যশোর মহাসড়কের বাস চালক আব্দুল করিম বলেন, "পাম্পে গেলে আগের মতো সহজে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, যার ফলে সময়মতো গাড়ি ছাড়া যাচ্ছে না।"
ট্রাক চালক মো. সাইফুল ইসলাম ও পণ্যবাহী ট্রাকের মালিক শহিদুল ইসলাম জানান, আগে ১০-১৫ মিনিটে তেল নেওয়া গেলেও এখন দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এছাড়া পাম্প থেকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় পণ্য পরিবহনে দেরি হচ্ছে এবং খরচও বাড়ছে।
বাস সুপারভাইজার রহমত আলী জানান, পাম্প থেকে পুরো ট্যাংক ভর্তি করা যাচ্ছে না। অল্প তেল নিয়ে রুটে যেতে হচ্ছে, ফলে মাঝপথে আবার তেলের জন্য ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে। এই ভোগান্তির শেষ কোথায় তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
সার্বিক বিষয়ে পেট্রোল পাম্প ম্যানেজার মো. মাহফুজ বিশ্বাস বলেন, "ডিপো যেভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, আমাদেরও সেইভাবেই বিক্রি করতে হচ্ছে।"
