থানা-পুলিশকে ম্যানেজ করে গোমতীর মাটি কাটা হচ্ছে: হাসনাত আবদুল্লাহ
থানা-পুলিশকে ম্যানেজ করে গোমতী নদী থেকে মাটি কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
তিনি বলেন, ''মাটিখেকোরা মাটি কাটার আগে পুলিশকে জানায় 'আমরা এই সময় থেকে ওই সময় পর্যন্ত মাটি কাটব'। এসিল্যান্ড-ইউএনও স্পটে যেতে যেতে পুলিশ আবার তাদেরকে সচেতন করে দেয়। তখন স্পটে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায় না। তাদেরকে যদি এক-দুই লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়, এটা তারা ইনভেস্টমেন্ট হিসেবে ধরে নেয়। এই খরচটা তাদের গায়েই লাগে না। আমি বলব সমঝোতার ভিত্তিতেই গোমতী নদী থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে থানা পুলিশের কিছু সদস্য জড়িত আছে।'
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ ইউএনও সভাকক্ষে আয়োজিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ''আমি গতকাল রাতে গোমতী নদীর বিভিন্ন স্পট ঘুরে দেখেছি। আমি যাওয়ার খবর তারা আগেই পেয়ে যায়। কাল কেউ মাটি কাটার সাহস করেনি।''
তিনি বলেন, ''মানুষ বিনা পয়সায় ভোট দিয়েছে। আমি নির্বাচনে নিজের পকেট থেকে ১০০ টাকাও খরচ করিনি। তাই আমার দায়বদ্ধতা দেবিদ্বারের জনগণের প্রতি। আমি মানুষের কল্যাণে দেবিদ্বার গড়ে তুলতে চাই।''
প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, 'আমি স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছি, দেবিদ্বারে যে পাঁচটি স্পট থেকে মাটি কাটা হয়; ওই পাঁচটি স্পটের মধ্যে একটি স্পটেও যেন আর এক কোদাল মাটিও কাটা না হয়। যদি এক কোদাল মাটি কাটা হয়, সেক্ষেত্রে আপনারা আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।'
তিনি বলেন, ''না হলে আমি ধরে নেব, আপনারা প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলেই তারা মাটি কাটার সুযোগ পাচ্ছে। আমি মনে করি, পুলিশের ভূমিকা এখানেই খুবই জরুরি। আপনারা প্রয়োজনীয় দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিবেন।''
এ সময় দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রাকিবুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সল উদ্দিন, দেবিদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামানসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
