রমজানের আগে সবজির দাম বাড়তি, জাহিদি খেজুরের দাম প্রায় দ্বিগুণ
রমজানকে ঘিরে শশা, বেগুন ও কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ৩০-৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। নিম্নবিত্তদের কাছে জনপ্রিয় জাহিদি (বস্তা) খেজুরের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ১০০-১২০ টাকা। এতে স্বল্প আয়ের মানুষেরা বিপাকে পড়েছেন।
ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজান সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শাহজাদপুর, বাড্ডা ও হাতিরপুলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শশা প্রতি কেজি ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা দুই দিন আগেও ছিল ৭০ টাকা। বেগুনের দাম কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়ে মানভেদে ১০০-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গোল বেগুন ১০০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ১২০-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচামরিচ কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ১৪০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮০-১২০ টাকায়।
অন্যান্য সবজির মধ্যে আলু প্রতি কেজি ২০ টাকা। কাঁচা পেঁপে ৮০-১২০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ও দেশি টমেটো ৪০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ওলকপি ৫০-৮০ টাকা, উচ্ছে ১২০-১৬০ টাকা এবং দেশি গাজর ৪০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
লাউ প্রতিটি ৬০-৭০ টাকা। সিম জাতভেদে ৪০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি প্রতিটি ৪৫-৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা এবং মুলা ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
শাহজাদপুর বাজারে সবজি কিনতে আসা মো. জাহিদ হোসেন টিবিএসকে বলেন, 'রমজানে অন্যান্য দেশে ব্যবসায়ীরা দাম কমায়, আর আমাদের দেশে বাড়ায়। লেবু ১২০ টাকা হালি চাচ্ছে, ছোটগুলো ৮০ টাকা। বেগুনির জন্য মানুষ কিনবে বলে বেগুনের দাম বাড়ানো হয়েছে। শশা ১০০ টাকা কেজি। ব্যবসায়ীরা শুধু সুযোগ খোঁজে।'
লেবু বিক্রেতা তাইজুল ইসলাম বলেন, 'লেবু পাওয়া যাচ্ছে না। যা পাচ্ছি, বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আমাদের হাতে কিছু নেই।'
এদিকে নিম্নবিত্তরা সাধারণত জাহিদি বা বস্তা খেজুর কেনেন। এক সপ্তাহ আগেও এ খেজুরের দাম ছিল ১৭০ টাকা কেজি। বর্তমানে তা বেড়ে ২৬০-২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জাহিদি খেজুরের কার্টনজাত পণ্য বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়।
কারওয়ান বাজারের পাইকারি ও খুচরা খেজুর বিক্রেতা আরাফাত হোসেন টিবিএসকে বলেন, 'বস্তা খেজুর আগে ১৪০-১৫০ টাকায় কিনতাম। গতকাল ২৪০ টাকা চেয়েছে। তাই আর আনিনি। এটি মূলত নিম্ন আয়ের মানুষ কেনেন।'
সপ্তাহের ব্যবধানে অন্যান্য খেজুরের দামও কেজিতে ৫০-১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত ডিসেম্বরে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। এতে দাম কমার কথা থাকলেও উল্টো বেড়েছে। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের বেশি কেনা খেজুরের দাম বেড়েছে।
বর্তমানে দাবাস খেজুর ৫৫০-৫৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারিতে এ খেজুর কেজিতে ৪০-৬০ টাকা বেড়েছে। এছাড়া বড়ই ৪৮০-৫০০ টাকা, কালমি ৭০০ টাকা, সুক্কারি ৮০০ টাকা, মাবরুম ৮৫০-১২০০ টাকা, মরিয়ম ১১০০-১৪০০ টাকা এবং মেডজুল ১২০০-১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব খেজুরের দামও কিছুটা বেড়েছে।
সার্বিক বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন টিবিএসকে বলেন, 'বাজার মনিটরিংয়ে সরকারের নজর নেই। ক্ষমতার এই ট্রানজিশন পিরিয়ডে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে। প্রশাসনিক ব্যবস্থা না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।'
