৫৪ বছর পর ভোট দিলেন ফরিদগঞ্জের নারীরা!
পীর সাহেবের নিষেধ ভেঙে দীর্ঘ ৫৪ বছর পর এবার ফরিদগঞ্জের রুপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারী ভোটাররা ভোট দেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় দক্ষিণ চর মান্দারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তারা ভোট দিতে আসেন।
মহিফুলের নেছা (৯০) নামের এক নারী ভোটার ইউএনবিকে জানান, 'বাবারে, জীবনে এবারই প্রথম ভোট দিলাম।'
আরও কয়েকজন নারী ভোটার লাইনে দাড়ঁনো অবস্থায় বলেন, আমরাও এবারই প্রথম ভোট দিতে আইলাম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোট দিতে তাদের সময় বেশি লাগছে। কারণ কেউই গত ৫৪ বছর ভোট দেননি। ভোট দেওয়ার পদ্বতিটাও জানা নেই তাদের। এবারে দুটি ব্যালট পেপার। কীভাবে কী করবেন, কোথায় সিল মারবেন, কীভাবে ভাঁজ করবেন—অনেক কিছুই তাদের অজানা।
৫৪ বছর ভোট না দেওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে কয়েকজন নারী বলেন, পীর সাহেবের মানা (নিষেধ) ছিল, বেপর্দা হবেন না, বাইরে যাবেন না, নারীরা ভোটও দিতে বাইরে যাবেন না, ভোটও দেবেন না। এভাবে চলতে চলতে, চলে গেল দীর্ঘ ৫৪টি বছর। ফলে সবাই ছিল ভোটবিমুখ। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই অবস্থা দেখা গেছে।
ইউনিয়নের চর মান্দারি গ্রামের শফিউল্যাহ (৮০) বলেন, '১৯৬৯ সালে এই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কলেরা মহামারি দেখা দেয়। সেই সময়ে ভারতের ঐতিহাসিক জৈনপুরী দরবারের পীর এই এলাকায় সফরে ছিলেন। তখন লোকজন তার কাছে গেলে, আর্জি করলে নারীদের পর্দায় থাকার নসিহত করেন তিনি। তখন থেকেই নারীরা পর্দার খেলাপ হওয়ার ভয়ে ভোটে অংশগ্রহণ থেকে দীর্ঘ বছর বিরত থাকছেন। এবার কিছুটা বরফ গলছে।'
জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিশেষ কাউন্সেলিং ও অনুরোধে এবার মহিলা ভোটারদের মধ্যে ভোট দেওয়ার আগ্রহ বেড়েছে বলে জানান স্থানীয় বেশ কয়েকজন পুরুষ ভোটার। এর ফলশ্রুতিতে ১২ তারিখ অনেক নারী ভোটার ভোট দিতে যান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এ ভোটকেন্দ্রে সব পোলিং কর্মকর্তা নারী ।
চর মান্দারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আ. সামাদ জানান, আগের ধারণা পাল্টে এবার রক্ষণশীল নারীরা ভোট দিতে আসতে শুরু করেছেন। নারী ভোটারদের সুবিধার জন্য এ কেন্দ্রে এবার সকল পোলিং কর্মকর্তা নারী।।
তিনি আরও বলেন, নারীদের লম্বা লাইন, তাই ভোট প্রদানে, পছন্দের প্রতীকে সিল মারতে তাদের দেরি হচ্ছে।
পাশের গৃদকালিন্দিয়া হাই স্কুল কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা লোকমান হাকিমও একই কথা জানিয়ে বলেন, তাছাড়া গত ৫৪ বছর কোনোদিনই কেউ ভোট দেননি। ভোটের পদ্বতিও ভুলে গেছেন । তাই সময় নিচ্ছেন ভোটের পেপারে সিল মারতে, ব্যালট পেপার ভাঁজ করতে এবং নিজ হাতে ব্যালট বাক্সে ভরতে।
রুপসা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের প্রেরণায়, উৎসাহে ও প্রচেষ্টায় নারীরা ভোট দিতে এসেছেন, আলহামদুল্লিাহ।
চাঁদপুর-৪ আসনের (ফরিদগঞ্জ) বিএনপি প্রার্থী হারুনুর রশীদ বলেন, নারীরা ভোট দিতে আসায় এলাকাবাসীসহ আমরা সকলে খুশি।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে জনসংখ্যা প্রায় ৩৭ হাজার। ভোটার সংখ্যা ২১ হাজার ৬৯৬ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১০ হাজার ৫৯৯ এবং পুরুষ ১১ হাজার ৩৯৬ জন।
